সাক্ষরতা বাড়াতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে: ববি হাজ্জাজ
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৩৩ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

দেশে এখনো প্রায় ২২ শতাংশ—অর্থাৎ সংখ্যার হিসেবে প্রায় চার কোটি মানুষ সাক্ষরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী, ফলাফলভিত্তিক ও কার্যকর করতে হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি বড় অংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার বয়সী অনেক শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে। সব শিশু বিদ্যালয়ে থাকবে, প্রত্যেক শিশু নৈতিকতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা পাবে এবং এমন দক্ষতা অর্জন করবে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে—এটাই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য।’
 
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর। তাই সংখ্যার বিচারে এটিকে দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও ক্ষমতায়িত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।

তিনি ব্যুরোর চলমান কার্যক্রমকে আরো ফলাফলমুখী করতে প্রকল্পগুলোর পুনর্বিন্যাস (রিস্কোপিং), নতুন রূপদান (রিডিজাইনিং) এবং সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণের (রিফোকাসিং) ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য অত্যন্ত পরিষ্কার—কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না। শিক্ষা খাতে বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় করতে হবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা, সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়নে। শুধু ভবন নির্মাণের জন্য নয়, বাজেটের প্রতিটি টাকা মানুষের সঠিক শিক্ষা নিশ্চিত করার কাজে ব্যবহার করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, শুধু সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি করাই যথেষ্ট নয়, মানুষকে এমন শিক্ষা দিতে হবে যা তার জীবনমান উন্নত করবে, মূল্যবোধ তৈরি করবে এবং কর্মজীবনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম করে তুলবে।
 
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার এবং অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

আইও/