
|
বইমেলায় লিটলম্যাগ কর্নার রাখার আহ্বান ইসলামি লেখক ফোরামের
প্রকাশ:
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:২২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত ইসলামি বইমেলায় লিটলম্যাগ কর্নারের জন্য স্টল বরাদ্দ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে লেখক, পাঠক ও লিটলম্যাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরামের পক্ষ থেকে মেলা কর্তৃপক্ষ ও লিটলম্যাগ আন্দোলনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাহনুমা প্রকাশনীর প্রকাশক মাহমুদুল ইসলাম তুষার এবং সন্দীপন প্রকাশনীর রোকন উদ্দীনের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় জানা যায়, গত বছর মেলায় প্রকাশক ও লিটলম্যাগ আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিষয়টির সমাধান হলেও তার কিছু রেশ থেকে যাওয়ায় এবার নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মেলায় অংশগ্রহণের নিয়ম-কানুন নিয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। সর্বশেষ আলোচনায় মেলার দায়িত্বশীল মাহমুদুল ইসলাম তুষার জানিয়েছেন, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মেলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর বৈঠক রয়েছে। সেখানে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করবেন এবং যেকোনোভাবে মেলায় লিটলম্যাগ কর্নার রাখার সুযোগ তৈরির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। অন্যদিকে, লিটলম্যাগ আন্দোলনের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, তাঁরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা বলেছেন এবং মহাপরিচালকের লিখিত সুপারিশও নিয়েছেন। তাঁরাও আশাবাদী, গতবারের মতো এবারও মেলায় লিটলম্যাগ কর্নার রাখার বিষয়ে একটি সুন্দর সমাধান হবে। বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরাম মনে করে, বিষয়টি যেহেতু আলোচনার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য, তাই এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে কিংবা লেখক-প্রকাশকের পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি ঘটায়। আমরা আশা করছি, সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক উদ্যোগে আগামীকালই বিষয়টির একটি সুন্দর ও সম্মানজনক সমাধান হবে। বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরাম মনে করে, একটি বইমেলায় লিটলম্যাগ কর্নার থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লিটলম্যাগ শিল্প-সাহিত্যের প্রাণ এবং নতুন লেখক, অনুবাদক ও সম্পাদক তৈরির উর্বর বীজতলা। এখান থেকেই অনেক প্রতিভাবান লেখক-সাহিত্যিকের সাহিত্যযাত্রার সূচনা হয়। তাই বইমেলার আয়োজন থেকে লিটলম্যাগকে দূরে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরাম তরুণ লেখক ও লিটলম্যাগকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে—মেলায় এমন কোনো পরিবেশ তৈরি করা যাবে না, যা বইমেলার সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের পরিপন্থী কিংবা প্রকাশকদের স্বাভাবিক বই বিক্রিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। নিজেদের দাবি ও প্রত্যাশা অবশ্যই থাকবে; তবে তা সৌহার্দ্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখেই উপস্থাপন করতে হবে। দিনশেষে লেখক ও প্রকাশক একে অপরের সারথি। লেখক ছাড়া প্রকাশকের পথচলা যেমন কঠিন, তেমনি প্রকাশকের সহযোগিতা ছাড়া লেখকের সৃষ্টিশীলতাও বৃহত্তর পাঠকের কাছে পৌঁছানো কঠিন। তাই সাহিত্য ও প্রকাশনার বৃহত্তর স্বার্থে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরাম আশা করে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিক উদ্যোগে বিষয়টির দ্রুত ও সুন্দর সমাধান হবে এবং ইসলামি বইমেলায় যথাযথ মর্যাদায় লিটলম্যাগ কর্নার রাখার ব্যবস্থা করা হবে। আরএইচ/ |