
|
‘কাফের-মুরতাদ ফতোয়া অত্যন্ত স্পর্শকাতর, সতর্কতা কাম্য’
প্রকাশ:
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৪৫ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক কাউকে কাফের বা মুরতাদ আখ্যায়িত করে ফতোয়া দেওয়া অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা। এ বিষয়ে ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা, শরিয়াহসম্মত নীতিমালা ও নির্ভরযোগ্য ইলমি নির্দেশনা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জামিআ ইকরা বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত শায়খ আরীফ উদ্দীন মারুফ (হাফি.) রচিত ‘খুতুরাতুত তাকফীর’ কিতাবের মোড়ক উন্মোচন ও একাডেমিক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘কাফের-মুরতাদ ফতোয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও নীতিমালা’ শীর্ষক সেমিনারে আরব বিশ্বের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা সংস্থা দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, লেবানন (DKI) থেকে প্রকাশিত কিতাবটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হোসাইনুল বান্নার প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিষয়টির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও মুফতিয়ানে কেরাম। প্রধান আলোচক দারুল উলূম দেওবন্দের মুফতি সাইয়্যেদ সালমান মানসুরপুরী বলেন, কাউকে কাফের বা মুরতাদ বলে ফতোয়া দেওয়া অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। তবে কোনো ব্যক্তিকে ঈমানদার হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ থাকলে—এমনকি কোনো একটি দুর্বল বক্তব্যের ব্যাখ্যার ভিত্তিতেও—ততক্ষণ পর্যন্ত তার ঈমান বহাল আছে বলেই বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, যেখানে কোনো ধরনের ব্যাখ্যার অবকাশ নেই এবং কোনো ব্যক্তির কুফরি বিষয় সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবে প্রমাণিত, সেখানে তার কুফরির বিষয়টি প্রকাশ করার ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখানোর সুযোগ নেই। এ প্রসঙ্গে দেওবন্দের প্রধান মুফতি হযরত মাওলানা মাহমুদ গাঙ্গুহি (রহ.)-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, আকাবিরে উলামায়ে দেওবন্দ কোনো মুসলমানকে কাফের বলার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করেন না। তবে কারও মধ্যে কুফরি বিষয় সুস্পষ্ট ও অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে সাব্যস্ত হলে তা প্রকাশ করার ক্ষেত্রেও তারা কোনো শিথিলতা অবলম্বন করেন না। মুফতি সাইয়্যেদ সালমান মানসুরপুরী বলেন, মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ রচিত ‘খুতুরাতুত তাকফীর’ কিতাবটি এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সুন্দর সংযোজন। দারুল ইফতার শিক্ষার্থীদের জন্য বইটিকে সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি এর বিষয়গুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের নোট করানো, মুযাকারা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে পাঠদান করা যেতে পারে। সভায় জামিআ ইকরা বাংলাদেশের শায়খুল হাদিস এবং জামে তিরমিজির আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘কিফায়াতুল মুগতাজি’-এর রচয়িতা শায়খ আব্দুল মতিন বলেন, কাউকে কাফের আখ্যায়িত করে ফতোয়া দেওয়ার সমস্যা এখন শুধু কোনো একটি দেশের বিষয় নয়; এটি সারা বিশ্বের একটি জটিল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে উম্মতকে সঠিক নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফের এ কিতাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আলোচকরা বলেন, তাকফিরের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তালিবে ইলমদেরও সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি। এ বিষয়ে ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে শরিয়াহর মূলনীতি, আলেমদের নীতিমালা ও ইলমি সতর্কতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
সভায় উপস্থিত দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম কিতাবটি আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়্যাহ বাংলাদেশ-এর নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে বিষয়টির সহজপাঠ তৈরি করে নিম্নস্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উপযোগী পর্যায়ে পাঠদানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তারা। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতি ও একাধিক ইলমি আরবি গ্রন্থের প্রণেতা শায়খ মুফতি হিফজুর রহমান, বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আলী, বিশিষ্ট আলেম, মুহাদ্দিস, মুহাক্কিক ও আদিব মাওলানা আহমদ মায়মূন, ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী (রহ.)-এর বিশিষ্ট খলিফা মাওলানা মুফতি হাফীজুদ্দীন, ফেদায়ে মিল্লাতের খলিফা রশীদ আহমাদ মকবুল, বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও মুফতি আব্দুস সালাম, বিশিষ্ট ইসলামী আলোচক মুফতি রেজাউল করিম আবরার এবং ইসলামী অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শায়েখ সানাউল্লাহ আজহারী, চৌধুরীপাড়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মুফতি খোরশেদ আলম, মাওলানা মুসলিম উদ্দিন এবং সন্দ্বীপের পীর সাহেব (রহ.)-এর সাহেবজাদা মাওলানা মুফতি এহসানুল্লাহ সন্দ্বীপীসহ দেশের বরেণ্য উলামায়ে কেরাম। আইও/ |