
|
‘ঘুষ ও দুর্নীতি নির্মূল করতে না পারলে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থেকে যাবে’
প্রকাশ:
০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৩৪ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক আমরা যদি বাজারব্যবস্থা থেকে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঘুষ ও দুর্নীতি নির্মূল করতে না পারি, তাহলে শহীদদের রক্তে অর্জিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থেকে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান মুজাহিদ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র ও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিস্তার লাভ করা দুর্নীতি এবং কৃত্রিম বাজার সিন্ডিকেট আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী করে তোলা, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং সরকারি সেবা পেতে ঘুষ দিতে বাধ্য করা—এসবই পুরোনো শোষণমূলক ব্যবস্থার ভিন্ন ভিন্ন রূপ। ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি বলেন, জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থান কেবল সরকার পরিবর্তন কিংবা ক্ষমতার পালাবদলের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল শোষণ, বঞ্চনা, স্বৈরাচার ও দুর্নীতির জাঁতাকল থেকে মুক্ত হয়ে একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার। শত শত শহীদের রক্ত এবং হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা হলো-এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং কৃষক ও ভোক্তাদের জিম্মি করা সিন্ডিকেটের কোনো স্থান থাকবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার থেকে কৃত্রিম সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি অবিলম্বে বন্ধ করে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে বলে দাবি জানান তিনি। তিনি দাবি করেন, সিটি করপোরেশনে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া প্রশাসককে প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোকে ঘুষ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত করে জনবান্ধব ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে সংঘটিত সব আর্থিক অপরাধ, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের সর্বস্তরে জবাবদিহি, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী ও ন্যায়ভিত্তিক চেতনাকে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, স্বচ্ছ, মানবিক ও সাম্যপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য ও জাতীয় দায়িত্ব। |