
|
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের প্রয়োজন
প্রকাশ:
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৫৮ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
|| মুফতি ইউসুফ সুলতান || সম্প্রতি বাংলাদেশের ধর্মীয় আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বেশ কিছু নেতিবাচক সংবাদ সামনে আসছে, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। এ বিষয়ে আমার উপলব্ধি শেয়ার করছি। এক: দুই: এ হাদীসের মূল ব্যাখ্যা হলো, সে সময় ব্যক্তির পরিপূর্ণ ঈমান থাকে না। তবে আরেকটা দিক আমার সবসময় মনে হয়। তা হলো, একজন চোরের পরিচয়ে সে চোর। একজন জিনাকারীর পরিচয়ে সে জিনাকারী। সে মুমিন কিনা, সেই পরিচয়টা তার অপরাধ বিবেচনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কাজেই একজন অপরাধী যদি আমার খুব কাছেরও হয়, আমার প্রতিষ্ঠানের হয়, আমার আত্মীয় হয়, আমার দলের হয়, সংগঠনের হয়, এলাকার হয়, অপরাধের বিচারের জায়গা থেকে তার ব্যাপারে কোনো রকম নমনীয়তা রাখার শরীয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো সুযোগ নেই। বিশেষ করে সেই অপরাধ যদি কারো হক বিনষ্টের হয়। উদাহরণস্বরূপ, কারো সম্পদ চুরি করা, আত্মসাৎ করা, কিংবা কারো ইজ্জত, সম্মান, আব্রু নষ্ট করা। আবাসিক প্রতিষ্ঠান, তা যেকোনো ধর্মেরই হোক, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে পুরো বিশ্বেই নানারকম কলঙ্কজনক ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এর ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানারকম আচরণবিধি, পরিচালনা কাঠামো, তদারকি নির্দেশিকা ও মানদণ্ডের কথা আমরা দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বরং যেটা করা দরকার বলে আমি মনে করি, তা হলো বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে একটি অভিন্ন আচরণবিধির আওতায় নিয়ে আসা। সেই বিষয়ে তাদেরকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া, তাদের কাছ থেকে বার্ষিক প্রতিবেদন নেয়া। কাজেই আমার পরামর্শ: ১. শিক্ষা বোর্ড হিসেবে তাদের নথিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি অভিন্ন আচরণবিধি রাখা উচিত। সেই আচরণবিধি ভাঙলে তাদের অনুমোদন অথবা বোর্ডের স্বীকৃতি বাতিল করা হবে, এবং এ বিষয়ে বার্ষিক প্রতিবেদন জমা নেয়া ও অন্যান্য কার্যক্রম থাকা উচিত। ২. সকল অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত এবং অপরাধের যে শাস্তি, তা অবশ্যই নিশ্চিত করা উচিত। সে যে কেউ হোক না কেন। অপরাধী হলে তাকে অবশ্যই দেশীয় আইনের দ্বারস্থ করা এবং অপরাধ প্রমাণে তার শাস্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা উচিত। কোনোভাবেই তাকে “নিরাপদ প্রস্থান” দেওয়ার সুযোগ নেই। এসএইচ/ |