
|
বান্দরবানে টানা ভারী বৃষ্টি, বন্যার আশঙ্কায় ২২০ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত
প্রকাশ:
০৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৬ রাত
নিউজ ডেস্ক |
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানে বন্যা ও পাহাড় ধসের শঙ্কা বেড়েছে। পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রধান দুই নদী সাঙ্গু ও মাতামুহুরীতে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বান্দরবানের সাত উপজেলায় ২২০টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানিয়েছে, বান্দরবান সদর উপজেলায় ৪৬টি, রুমা উপজেলায় ২৮টি, রোয়াংছড়ি উপজেলায় ১৯টি, থানচি উপজেলায় ১৫টি, আলীকদম উপজেলায় ১৫টি, লামা উপজেলায় ৫৫টি এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বান্দরবান জেলা শহরের নৌঘাট, পুরাতন ও নতুন সেতু এলাকা, স্লুইস গেট, ওয়াপদা ব্রিজ, বাস স্টেশন, মারমা বাজার, উজানী পাড়া সিঁড়ি ঘাট, কালা ঘাটা, বালা ঘাটা এবং ব্রিগেড কমান্ডারের সদর দপ্তরের প্রবেশমুখ ঘুরে দেখা গেছে, নদীর পানি অনেক নিচু এলাকায় বসতঘরের খুঁটির গোড়া পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। জেলা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রাবাসের সামনের সড়ক এবং ব্রিগেড সদর দপ্তর, কালা ঘাটা, ইসলামপুর, ক্যমলং এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে হাঁটুসমান জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের অফিসার ইনচার্জ সনাতন কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, গতকাল (৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ ৭(জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টাও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর পানি ১১ দশমিক ০৮ মিটার ও সাঙ্গু নদীর পানি ১২ দশমিক ৭৯ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরী নদীর বিপৎসীমা ১১ দশমিক ৮০ মিটার এবং সাঙ্গু নদীর বিপৎসীমা ১৪ দশমিক ৮০ মিটার। সারা রাত ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে দুই নদীর পানিই দ্রুত বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেছেন, “টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলের কারণে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এরইমধ্যে থানচি উপজেলার বলি পাড়া ইউনিয়ন এবং লামা ও আলীকদম উপজেলার কয়েকটি এলাকায় প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জেলা ও উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ কিছুটা বিঘ্নিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে, সম্পূর্ণভাবে সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হওয়ার খবর শোনা যায়নি।” তিনি বলেন, “নদী তীর ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে বান্দরবানের সাত উপজেলায় ২২০টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখনো কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে আসেননি। নিয়মিত মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে।” জেডএম/ |