ভারতে এআই-নির্মিত অশ্লীল কনটেন্টের টার্গেট মুসলিম নারীরা
প্রকাশ: ০৭ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৫৫ সকাল
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতে মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ও আপত্তিকর ছবি, ডিপফেক এবং অবমাননাকর কনটেন্টের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে এক নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ধরনের কনটেন্ট প্রচারে জড়িত ২৯৭টি উন্মুক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬৭ লাখ (৬.৭ মিলিয়ন) ইন্টারঅ্যাকশন রেকর্ড করা হয়েছে। গবেষণায় বিশ্লেষণ করা কনটেন্টের মধ্যে ছিল এআই-নির্মিত যৌনধর্মী ছবি, অবমাননাকর পোস্ট এবং মুসলিম নারীদের যৌনায়িত বা হেয়প্রতিপন্ন করে উপস্থাপনকারী বিভিন্ন উপাদান।

গবেষণায় বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে অনলাইন হয়রানির ধরন আরও জটিল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এখন কোনো নারীর সম্মতি ছাড়াই তাঁর ছবি কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন করে যৌনধর্মী বা আপত্তিকর রূপ দেওয়া এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া অনেক সহজ হয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মুসলিম নারীদের বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ফলে বিষয়টি শুধু অনলাইন হয়রানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং ধর্মীয় বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িক বৈষম্য এবং ঘৃণামূলক প্রচারণার সঙ্গেও এটি জড়িয়ে পড়ছে।

গবেষণায় ভারতের বিদ্যমান আইনি কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়, এআই-নির্মিত আপত্তিকর কনটেন্ট, ডিপফেক এবং কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া ভুয়া যৌনধর্মী ছবি তৈরির মতো নতুন প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় বর্তমান আইন ও তার প্রয়োগে এখনও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এআই প্রযুক্তি যেমন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি এর অপব্যবহার ব্যক্তিগত মর্যাদা, গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে। বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়ের নারীদের লক্ষ্য করে এ ধরনের কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া সামাজিক বিদ্বেষ ও বৈষম্যকে আরও উসকে দিতে পারে।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত ২৯৭টি অ্যাকাউন্ট এবং ৬.৭ মিলিয়ন ইন্টারঅ্যাকশনের তথ্য সংশ্লিষ্ট গবেষণার দাবি। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী এসব পরিসংখ্যান প্রকাশের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রতিবেদনটির নাম, প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা পদ্ধতির উল্লেখ থাকা প্রয়োজন।

সূত্র: ইউএনএ নিউজ

আইও/