
|
প্রতিবাদের ভাষায় অশ্লীলতা: সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন সংকট
প্রকাশ:
০৬ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৩৮ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
|| মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম || অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এক শক্তিশালী মাধ্যম হলো প্রতিবাদ করা। যে-কোনও ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে এর রয়েছে বিশাল ভূমিকা। কিন্তু সম্প্রতিককালে লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রতিবাদের ভাষা ও ধরনে এক চরম অবক্ষয় নেমে এসেছে। দাবী আদায় বা ক্ষোভ প্রকাশের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনীতির মঞ্চ ও রাজপথের মিছিলে দেদারসে ব্যবহৃত হচ্ছে অশালীন, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ। প্রতিবাদের এ কদর্য রূপ ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের উপর যে দীর্ঘমেয়াদী ও অশুভ প্রভাব ফেলতে পারে তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। বরং ইতোমধ্যে সে প্রভাব পরিলক্ষিতও হচ্ছে। অশ্লীল শব্দের অবাধ ব্যবহার তরুণদের সুকুমারবৃত্তি ধ্বংস করছে । তাদের আদব লেহাজ শেষ করে দিচ্ছে। তাদেরকে উগ্র ও উদ্ধত করে তুলছে। বলাবাহুল্য ভাষা মানুষের রুচি ও ব্যক্তিত্বের আয়না। কুরুচিপূর্ণ শব্দের অবাধ ব্যবহার জানান দিচ্ছে আজকের তরুণরা কতটা অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে । তাদের নীতি নৈতিকতা কতটা নিচে নেমে গেছে। এর দ্বারা কিশোর বালকেরা বিভ্রান্ত হচ্ছে। এসব দেখে শুনে তারা হয়ত ভাবছে কাউকে গালি দেওয়া, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করতে পারা, কারও ব্যক্তিত্বের উপর আঘাত করা বা কাউকে অপমান করা খুব বীরত্বের কাজ। এভাবে এর চর্চার মাধ্যমে উত্তরোত্তর তাদের মূল্যবোধ ধ্বংস হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন পরিবার ও সমাজ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। আদব লেহাজ ভদ্রতা সভ্যতা ও সম্ভ্রমবোধ নিঃশেষ হয়ে যাবে। সর্বত্র ঘৃণা, বিভেদ,বেআদবি ও অসভ্যতা জেঁকে বসবে, যা কোন মনুষ্য সমাজের চরিত্র হতে পারে না। অন্যায় অনাচারের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু সে প্রতিবাদের ভাষা নিজেই যদি অন্যায়ের রূপ নিয়ে নেয়, তবে সে প্রতিবাদ সমাজের জন্য কেবল অকল্যাণই বয়ে আনবে । সুতরাং এর রোখথাম করতে হবে এখনই। এর জন্য সচেতনমহলকে এখনই কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। লেখক: মুহাদ্দিস, লেখক ও গবেষক /আইও |