
|
নির্যাতন করে চেকে সই আদায়, দোষীদের শাস্তি দাবি রিহ্যাবের
প্রকাশ:
০৬ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৪১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
বরিশালে রিহ্যাবের এক সদস্যের ওপর শারীরিক নির্যাতন, সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সংগঠনটি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর রিহ্যাব প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল।
ড. আলী আফজাল বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত জামিনের চেষ্টা এবং ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা কোনো ধরনের ভয় বা চাপ ছাড়াই আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন। রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশের আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে এ খাতের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর ভয়ভীতি, জোরজবরদস্তি, চাঁদাবাজি, শারীরিক নির্যাতন কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে কোনো দাবি আদায়ের সংস্কৃতি কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ব্যবসায়িক বা আর্থিক বিরোধ থাকলে তা আইন ও বিচারব্যবস্থার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করতে হবে। একইভাবে কোনো উদ্যোক্তা আইন লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না, সেটি রিহ্যাবের বিবেচ্য বিষয় নয়। রিহ্যাব ব্যক্তি নয়, অপরাধকে দেখে। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়াই আইনের শাসনের ভিত্তি। সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব চার দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলো—ঘটনার নিরপেক্ষ, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ.এফ.এম. ওবায়দুল্লাহ, পরিচালক প্রকৌশলী মো. মোস্তফা কামাল, পরিচালক হাবিবুর রহমান হাবিব, পরিচালক শেখ কামাল, পরিচালক মো. এমদাদুল হোসেন সোহেলসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রিহ্যাব সবসময় আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেশের আবাসন খাতের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করবে। রিহ্যাব আশা প্রকাশ করে, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো উদ্যোক্তা এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার শিকার না হন এবং দেশের বিনিয়োগবান্ধব ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হয়।
এসএইচ/ |