হারামাইনের সাউন্ড সিস্টেম বদলে দেওয়ার কারিগর তুর্কি প্রকৌশলী
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

একটি ওমরা সফর থেকে শুরু হয়েছিল সমস্যা চিহ্নিত করার কাজ। আর সেই কাজই পরবর্তী ১০ বছরে রূপ নেয় মক্কা ও মদিনার দুই পবিত্র মসজিদের সাউন্ড সিস্টেম উন্নয়নের বড় এক প্রকল্পে।

১৯৯৭ সালে তুরস্কের অডিও প্রকৌশলী আহমেদ টেকিন টুপুজদাগ ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে মদিনায় যান। সে সময় মসজিদে নববীর ভেতরে নামাজের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের কণ্ঠস্বর স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছিল না বলে তাঁর নজরে আসে। অতিরিক্ত প্রতিধ্বনি ও শব্দের প্রতিক্রিয়ার কারণে অনেক জায়গায় শব্দের স্বচ্ছতা নষ্ট হচ্ছিল।

বিষয়টি নিয়ে তিনি মসজিদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর ধারণা ও প্রযুক্তিগত সমাধান পরীক্ষা করার জন্য সাউন্ড সিস্টেমের একটি অংশে কাজ করার সুযোগ পান। পরীক্ষামূলক কাজের পর শব্দের মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। এরপর তাঁকে মসজিদে নববীর পুরো অডিও সিস্টেম উন্নয়নের কাজে যুক্ত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।

পরবর্তী প্রায় ১০ বছরে টুপুজদাগ মসজিদে নববীর অডিও ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নে কাজ করেন। একই সঙ্গে তিনি মসজিদুল হারামের সাউন্ড সিস্টেম উন্নয়নেও কাজ করেন।

এ সময় পুরোনো মাইক্রোফোন, কেবল, স্পিকারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরিবর্তন করা হয়। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কণ্ঠস্বর আরও স্পষ্টভাবে পৌঁছানোর জন্য পুরো সিস্টেমের সমন্বয় করা হয়। কমানো হয় অতিরিক্ত প্রতিধ্বনি ও শব্দের প্রতিক্রিয়া। বড় পরিসরের মসজিদের ভেতরে শব্দের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে সাউন্ড সিস্টেমকে সাতটি পৃথক অডিও জোনে ভাগ করা হয়।

নামাজের বিভিন্ন অংশে ইমামের কণ্ঠস্বর যেন মুসল্লিদের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছে যায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় স্থানে অতিরিক্ত মাইক্রোফোনও স্থাপন করা হয়।

কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর দুই পবিত্র মসজিদের শব্দের স্বচ্ছতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। আগের তুলনায় বিস্তৃত ফ্রিকোয়েন্সিতে শব্দ শোনা সম্ভব হয় এবং প্রতিধ্বনির সমস্যাও অনেকটাই কমে আসে।

সৌদি আরব ছাড়ার আগে টুপুজদাগ স্থানীয় সৌদি প্রকৌশলীদেরও অডিও সিস্টেম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন। পরবর্তীতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব প্রকৌশলী সৌদি আরবের বিভিন্ন মসজিদের সাউন্ড সিস্টেম পরিচালনার কাজে যুক্ত হন।

অর্থাৎ, ১৯৯৭ সালে ওমরা পালনের সময় মসজিদে নববীর শব্দের একটি সমস্যা নজরে আসা থেকে যে উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত প্রায় এক দশকের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে রূপ নেয়। এর মাধ্যমে দুই পবিত্র মসজিদে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের কণ্ঠস্বর আরও স্পষ্টভাবে লাখো মুসল্লির কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন

আরএইচ/