
|
ইলম, রাজনীতি ও একজন আলেমের দীর্ঘ যাত্রা
প্রকাশ:
০৬ জুলাই, ২০২৬, ০৯:০৬ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
|| ইফতেখার জামিল || দুই হাজার বিশে একবার বিতর্ক শুরু হয়েছিল—বাংলাদেশে কি কোন আলেম আছে? আমি মোটামুটি জোরালোভাবে এই বিতর্কে অংশগ্রহণ করি, ইলম-আলেম কাকে বলে, এগুলো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করি। দেখেন, ইলম চর্চা করা একইসাথে খুবই সহজ ও কঠিন কাজ—আপনি কুরআন-হাদিস পড়বেন, কুরআন-হাদিসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কিতাব/লিটারেচার পড়বেন, পড়াবেন, তাহকিক করবেন, ইসলাহি কাজ করবেন। এগুলো খুবই সরল বিষয়, তবে একইসাথে অত্যন্ত কঠিন—কারণ এগুলো প্রধানত অলাভজনক, সময়সাপেক্ষ। ঠিক এ কারণেই, যারা রাজনীতির সাথে জড়িত, পার্থিব লাভালাভের বিষয়ে সতর্ক, তারা সাধারণত ইলম চর্চা করতে পারেন না। ঠিক একই কারণে আমি মনে করি, কোন রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের পক্ষে 'ইলম চর্চা' দখল করা সম্ভব নয়। তারা ধৈর্যই ধরে রাখতে পারবে না। আপনি যদি অনেক বড় মাদরাসার সাথে যুক্ত হন, অনেক বড় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন, তবু আপনি খুব সহজে ইলম চর্চা করতে পারবেন না। দুই-তিন বছরেও কোন দৃশ্যমান ফলাফল পাবেন না, একটা সময় মনে হবে, কী দরকার—ইসলাম তো খুব সহজ। ঠিক এ কারণেই বিখ্যাত আলেমদের একটা বড় অংশ জীবদ্দশায় কাজের স্বীকৃতি পাননি। ইমাম বুখারিকে তার এলাকার মানুষ বর্জন করেছিল, ইমাম তাবারিকেও কাছাকাছি পরিণতি বরণ করতে হয়েছিল। ইবনে খালদুনের দোহাই দিয়ে আমরা আজকাল সমাজ ও রাজনীতি ব্যাখ্যা করি—কিন্তু রাজনৈতিক জীবনে খালদুন ছিলেন চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ একজন মানুষ। ইলম/স্কলারশিপ চর্চার কাজটা একটা নিঃসঙ্গ জার্নি। যারা খুব বেশি হইচই করতে অভ্যস্ত, যারা রাজনীতি বা মতাদর্শ নিয়ে অতি আগ্রহী, তারা সাধারণত এত ধৈর্য রাখতে পারেন না। আপনি অনেক লেখালেখি করলেন, অনেক বাহাবা পেলেন, তাতেও বিশেষ কোন লাভ হবে না। আমাদের মুহসিন উস্তাজ আব্দুর রব মদিনা হুজুর বিশেষ কিছুই লেখে যাননি, আমি এই বয়সেই অন্তত দশ গুণ বেশি লেখালেখি করেছি। কিন্তু বাস্তবতা হল, আমার মত একশোজনকে মিলালেও মদিনা হুজুরের স্তরে পৌঁছা সম্ভব নয়। এগুলো ইমোশনাল কোন কথা নয়—আব্দুল হাই পাহাড়পুরি রাহিমাহুল্লাহু মদিনা হুজুরের খাস ছাত্রদের একজন। পাহাড়পুরির দুই ছাত্রকে আপনারা সবাই চিনেন, আবু তাহের মিসবাহ ও মাওলানা আব্দুল মালেক। কখনো কখনো একজন আলেম বছরের পর বছর ধরে বীজবপনের কাজটা করে যান, লোকজন কেউ তাদেরকে চিনে না। অধিকাংশ বীজ-পরিচর্যা কোন কাজে আসে না। কালেভদ্রে পঞ্চাশ বছরের চেষ্টায় কিছু গাছ দাঁড়িয়ে যায়, এক-দুইটা গাছ স্পর্শ করে আকাশ। মদিনা হুজুর চব্বিশ ঘণ্টা মাদরাসায় থাকতেন, এই যুগে এগুলো কল্পনাও করা সম্ভব নয়। আপনারা যে এতসব প্রোডাক্টিভিটির গল্প জানেন, সেগুলোর ভিত্তিতে কোন হিসাব দাঁড় করাতে পারবেন না। কিন্তু বাস্তবতা হল, বাংলাদেশের ইলমি অবকাঠামো তৈরি করে দিয়ে গেছেন মদিনা হজুরের মত মানুষরাই। কোন গোষ্ঠী, দল বা মতাদর্শের পক্ষে গোষ্ঠীগতভাবে একজন মদিনা হুজুরকে জন্ম দেওয়া সম্ভব নয়। পুনশ্চ—মদিনা হুজুর ছিলেন মাওলানা জাকারিয়া কান্ধলবির ছাত্র। কান্ধলবি দরসে হুজুরের প্রতি তাওয়াজ্জুহ দিয়েছিলেন। হুজুর সারাজীবনটা সেই সম্পর্ক-উষ্ণতাতেই কাটিয়ে দেন। /আইও |