
|
ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দারুল উলুম হাটহাজারী পরিদর্শন
প্রকাশ:
৩০ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৫৯ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী মুহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন ব্যক্তিগত আগ্রহে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসা পরিদর্শন করেছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় তিনি মাদরাসা ক্যাম্পাসে পৌঁছালে জামিয়ার উস্তাদরা তাকে স্বাগত জানান। পরে প্রতিমন্ত্রী জামিয়ার মহাপরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী, শায়খুল হাদিস আল্লামা শেখ আহমদ, শায়খে সানী আল্লামা শোয়াইব জমিরী, মুহাদ্দিস আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীনসহ ঊর্ধ্বতন উস্তাদ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। এ সময় জামিয়ার শিক্ষা কার্যক্রম, দাওয়াহ ও দ্বীনি-মানবিক খেদমত সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। বিনামূল্যে শিক্ষা, আবাসন, দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীদের খোরাকী ও কিতাবপত্র সরবরাহসহ জামিয়ার বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। প্রতি বছর জামিয়া থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার আলেম ফারেগ হন বলেও তাকে জানানো হয়। মতবিনিময়ে আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন বাংলাদেশের মুসলমানদের বৃহৎ অংশ হানাফি মাযহাবের অনুসারী উল্লেখ করে আকিদাগত বিষয়ে আলেম সমাজ ও সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগের বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দ্বীনি শিক্ষা ও দাওয়াহ কার্যক্রমে কওমি মাদ্রাসার গৌরবময় ভূমিকার প্রতি তার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আপনাদের যেকোনো খেদমত ও সহযোগিতায় আমাকে পাশে পাবেন, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি আরও বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট মতবাদ কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং সব ধর্ম ও মতের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহনশীলতা, শান্তি ও স্বাধীনতার পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা করা। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রয়োজনে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তার অংশগ্রহণকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা না করার জন্যও তিনি আলেমদের প্রতি আহ্বান জানান। মতবিনিময়ে দারুল উলূম হাটহাজারীর পক্ষ থেকে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কার্যকর করা, বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রতিবন্ধকতা দূর করা, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় শিক্ষক পদে কওমি আলেমদের নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং কওমি মাদ্রাসার অনুদানকে কর অব্যাহতির আওতায় আনার বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকা কামনা করা হয়। পাশাপাশি তাবলিগ জামাতের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধ ও সাদপন্থীদের বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। উত্থাপিত বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনে প্রতিমন্ত্রী সরকারি বিধি-বিধানের আওতায় সম্ভাব্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় তিনি দারুল উলূম হাটহাজারীসহ দেশের বড় মাদ্রাসাগুলোতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও মতের নির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়ে ‘ক্যাপস্টোন কোর্স’-এর আদলে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ আয়োজনের প্রস্তাব দেন। এর মাধ্যমে ইসলাম, দ্বীনি শিক্ষা ও দাওয়াহ সম্পর্কে বিভিন্ন মহলের মধ্যে বাস্তব ও ইতিবাচক ধারণা তৈরি এবং ইসলাম সম্পর্কে প্রচলিত বিভ্রান্তির জবাব দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি মত দেন। প্রায় ৪০ মিনিটের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় শেষে প্রতিমন্ত্রী জামিয়ার শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) ও কায়েদে মিল্লাত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)-এর মাকবারাহ জিয়ারত করেন। পরে তিনি মেখল হামিউচ্ছুন্নাহ মাদরাসার উদ্দেশে হাটহাজারী ত্যাগ করেন। আইও/ |