
|
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণ করেন এএসপি ফজলু: ডিবি
প্রকাশ:
০৩ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৫৮ রাত
নিউজ ডেস্ক |
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে এসে ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে অপহৃত হন পিরোজপুরের সুখরঞ্জন বালী। ওই ঘটনায় সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুর রহমান সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। শফিকুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রিকুইজিশনের ভিত্তিতে এএসপি ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণের ঘটনায় ফজলুর রহমান সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর বাড্ডায় তাঁর বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আরও বলেন, ঘটনার সময় ফজলুর রহমান ডিবিতে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন সুখরঞ্জন বালী হাইকোর্ট এলাকায় গাড়ি থেকে নামলে ফজলুর রহমান তাকে একটি থাপ্পড় মারেন। পরে শার্টের কলার ধরে তাকে ডিবির গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ফজলুর রহমান ও তাঁর টিম সরাসরি জড়িত ছিল বলে জানান তিনি। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরের বাসিন্দা সুখরঞ্জন বালী ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই নিখোঁজ হন। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, তাঁকে সীমান্ত এলাকায় পাওয়া গেছে। তবে তাঁর পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিল, তাঁকে ট্রাইব্যুনাল এলাকা থেকেই তুলে নেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একই বছরের ২১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একটি অভিযোগ করেন সুখরঞ্জন বালী। অভিযোগে তিনি বলেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়া এবং পরে তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আসায় তাঁকে গুম ও নির্যাতন করা হয়েছিল। ওই অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের তালিকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির, সাবেক তদন্তকারী কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন এবং পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়ালের নামও রয়েছে। আইও |