ধর্মান্তরের ঝুঁকি মোকাবিলায় মক্তবব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের
প্রকাশ: ০৩ জুলাই, ২০২৬, ০৭:২৮ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতে ধর্মান্তরের (ইরতিদাদ) ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশজুড়ে মক্তবব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর শিক্ষা বিভাগ দীনি তালিমি বোর্ড।

শুক্রবার (৩ জুলাই) নয়াদিল্লির মাদানি হলে অনুষ্ঠিত বোর্ডের নির্বাহী পরিষদের (মজলিসে আমেলা) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের সভাপতি মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নোমানি। সভা পরিচালনা করেন বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মুফতি সালমান মনসুরপুরী। এতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা সাইয়্যেদ মাহমুদ আসাদ মাদানি এবং মুফতি সাইয়্যেদ আফফান মনসুরপুরী-সহ বিভিন্ন প্রদেশের দায়িত্বশীল ও নির্বাহী সদস্যরা অংশ নেন।

বৈঠকে দেশের সার্বিক দ্বীনি শিক্ষার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। বিভিন্ন প্রদেশের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ অঞ্চলের কার্যক্রম, সমস্যা ও চাহিদা তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে বোর্ডের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা, দেশব্যাপী শতভাগ কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং প্রাদেশিক সমস্যাগুলোর সমাধানে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

এছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষিকা প্রশিক্ষণ, নতুন কর্মী নির্বাচন, বিভিন্ন ভাষায় পাঠ্যক্রম অনুবাদ, ইসলামি শিক্ষার বই সরবরাহ, উর্দু শিক্ষা কার্যক্রম, বুক ডিপোর শাখা সম্প্রসারণ এবং যৌথ গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে স্কুল টিউশন ব্যবস্থা, শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণ এবং শরিয়াহসম্মত সীমারেখার মধ্যে মেয়েদের ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মতো নতুন কয়েকটি প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি অনুমোদন দেওয়া হলেও কিছু প্রস্তাব আরও পর্যালোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানি ভারতে ধর্মান্তরের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম সমাজকে ঈমান ও আকিদা রক্ষায় আরও সচেতন হতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে মক্তবব্যবস্থার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, মুসলিম সমাজ চারদিক থেকে নানা ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এমন পরিস্থিতিতে যদি দায়িত্বশীলরা অবহেলা করেন, তবে এর ক্ষতিকর প্রভাব আগামী প্রজন্ম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অন্যের ঈমান রক্ষার চেষ্টা করলে নিজের ঈমানও সংরক্ষিত থাকবে—এ কথা উল্লেখ করে তিনি মক্তবভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নোমানি বলেন, বিভিন্ন প্রদেশের প্রতিনিধিদের একত্র করার উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সমন্বিতভাবে দ্বীনি শিক্ষার কাজকে আরও এগিয়ে নেওয়া। একটি প্রদেশের সফল উদ্যোগ অন্য প্রদেশের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের মধ্য দিয়ে বৈঠক শেষ হয়। সমাপনী দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নোমানি।

তথ্যসূত্র: জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ফেসবুক পেইজ

আইও/