বদলে যাচ্ছে ২০০৬ সালের ভিসা নীতি
প্রকাশ: ০৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৫ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা, দক্ষ মানবসম্পদ ও পর্যটন খাতকে আরও উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৬ সালের ভিসা নীতিমালা সংশোধন করে নতুন ভিসানীতি-২০২৬ প্রণয়ন করছে সরকার।

নতুন নীতিমালায় ভিসা প্রক্রিয়া এবং বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং পারস্পরিকতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভিসানীতি-২০২৬-এর খসড়া উপস্থাপন করা হয়।

খসড়াটি পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। একই বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থানকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করা, বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা, পারস্পরিকতার নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা করা এবং আধুনিক ও সেবামুখী অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলাই নতুন নীতিমালার প্রধান উদ্দেশ্য।

নাসিমুল গনি বলেন, আগে হিসাব ছিল পারস্পরিক ভিত্তিতে সব হবে। তোমার লোক এলে আমি এতটুকু ভিসা দেব, এতদিন ভিসা দেব— এমন সব শর্ত। ওরা যা করবে আমরাও তাই করব। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের কিছু জায়গায় তো দরকার বেশি। সেখানে তার একজন ব্যবসায়ী যদি আসে আমার জন্য সুবিধা। সে এ দেশে ইনভেস্ট করতে পারবে। তো এ নিরিখে এই বোধটা আমাদের হয়েছে। সেই কারণে সরকার চাচ্ছে যে, একটা ইকোনমিক থ্রাস্ট হোক।

তিনি আরও জানান, নতুন ভিসানীতিতে ভিসার ৩৪টি ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে। তবে এসব ক্যাটাগরির বিস্তারিত বিষয় পরিমার্জন শেষে চূড়ান্ত নীতিমালায় প্রকাশ করা হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২০০৬ সালের নীতিমালার পরিবর্তে সময়োপযোগী এই নতুন ভিসানীতি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ, পর্যটন এবং প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক, সেবামুখী ও কার্যকর হবে।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম