
|
প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগসহ জাতীয় শিক্ষক ফোরামের ১০ দফা দাবি
প্রকাশ:
২৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:১১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক এনটিআরসির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান এবং নবম পে-স্কেলে তাদের অন্তর্ভুক্তিসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। এমপিও, নন-এমপিও, ইবতেদায়ীসহ সব শিক্ষকের প্রত্যাশা পূরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের প্রতি এসব দাবি জানানো হয়। জাতীয় শিক্ষক ফোরামের দাবির মধ্যে রয়েছে—শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি, যাতে রাষ্ট্রের ওপর আর্থিক চাপ কমানো যায়। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান এবং নবম পে-স্কেলে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্তির দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল চালুর দাবি করেছে সংগঠনটি। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সঞ্চিত সমুদয় অর্থ বিধি অনুযায়ী একসঙ্গে পরিশোধের দাবি জানিয়ে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম বলেছে, হয়রানি বন্ধে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে এনটিআরসির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের অযথা হস্তক্ষেপ বন্ধ করে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্কুল, কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষায় বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। এছাড়া বদলি কার্যক্রম সহজতর করা এবং স্থগিত থাকা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানদের নিয়োগের ভাইভা দ্রুত সম্পন্ন করে নিয়োগ দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো জাতীয়করণের দাবিও জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম। সংগঠনটির দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বৈষম্যের শিকার। শিক্ষাক্রম দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বোধ-বিশ্বাসের আলোকে প্রণয়ন এবং শিক্ষার সব স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিও রয়েছে তাদের। পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষায় ব্যবহারিক পরীক্ষা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়ে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম বলেছে, এ ক্ষেত্রে ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ, আগের সরকারের আমলে সংঘটিত সব দুর্নীতির বিচার এবং অবসর ও কল্যাণ তহবিলের আট হাজার কোটি টাকা লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। এমপিওভুক্ত কলেজে অনার্সে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্তির আওতায় আনার দাবিও করেছে সংগঠনটি। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক নাছির উদ্দীন। প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। এ সময় জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আইও/ |