
|
ঈমান-আকিদা সংরক্ষণে উলামা-মাশায়েখ কনভেনশনে ৭ দফা দাবি পেশ
প্রকাশ:
২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:৩৩ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ঈমান-আকিদা ও ইসলামি মূল্যবোধ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণসহ সরকারের কাছে সাত দফা দাবি জানিয়েছে ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটি। এর মধ্যে রয়েছে ট্রান্সজেন্ডার-সংক্রান্ত বিধান বাতিল, হিজবুত তাওহীদ নিষিদ্ধ, কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন পাস না করার দাবি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় উলামা-মাশায়েখ কনভেনশনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। মাওলানা আব্দুল আউয়াল পীর সাহেব ডিআইটির সভাপতিত্বে এবং মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন ও মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর যৌথ সঞ্চালনায় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়েখে চরমোনাই। বিশেষ আলোচক ছিলেন পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াস গুম্মান। কনভেনশনে বক্তারা বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঈমান-আকিদা, ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় চেতনা রক্ষায় ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। বিভিন্ন নামে ও মতাদর্শে পরিচালিত বিভ্রান্তিকর ও ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আলেম-ওলামা, ইসলামী চিন্তাবিদ ও ধর্মপ্রাণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা। জাতীয় উলামা-মাশায়েখ কনভেনশন থেকে সরকারের কাছে যে সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে, সেগুলো হলো— ১. মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা। ২. কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা। ৩. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা। ৪. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহীদকে নিষিদ্ধ করা। ৫. জাতীয় শিক্ষা সিলেবাসের ধর্মশিক্ষার বইয়ে নবী-রাসুল ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনচরিত সংযুক্ত করা। ৬. জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শ্রম আইন থেকে ট্রান্সজেন্ডার-সংক্রান্ত শব্দগুলো বাতিল করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর চিন্তা-চেতনার আলোকে দ্বি-লিঙ্গ নীতি ঘোষণা করা। ৭. মুসলিম পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয়সংক্রান্ত মামলার জন্য হাইকোর্টে স্বতন্ত্র শরিয়াহ বেঞ্চ গঠন করা। মাওলানা আব্দুল আউয়াল পীর সাহেব ডিআইটির সভাপতিত্বে এবং মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন ও মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর যৌথ সঞ্চালনায় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়েখে চরমোনাই। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াস গুম্মান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, আল্লামা নুরুল ইসলাম অলিপুরী, মুফতি মুহাম্মদ আবুল মালেক, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী পীর সাহেব দেওনা, মুফতি জসিম উদ্দিন হাটহাজারী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা শায়েখ সাজিদুর রহমান, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী ও মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী। এ ছাড়া কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মাহবুবুল্লাহ কাসেমী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুফতি আবু সাঈদ নোমান, মুফতি জাবের কাসেমী, মুফতি মোহাম্মদ আলী আফতাবনগর, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান, মুফতি বশির উল্লাহ, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মাওলানা আবু আম্মার আব্দুল্লাহ, মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী, মাওলানা রশিদ বিন ওয়াক্কাস, মুফতি ওয়াহিদুল আলম উত্তরা, মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, মুফতি রেজাউল করিম আবরার, মুফতি শামসুদ্দীন কাসেমী, মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, মাওলানা নোমান আহমদ, মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী, মুফতি আল আমিন কাসেমী, মাওলানা নাজমুল হাসান বিন নূরী, মাওলানা হিফজুর রহমান ও সাব্বির মাযহারীসহ অনেকে। আইও/ |