ট্রান্সজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইন বাতিল ও হিজবুত তাওহীদ নিষিদ্ধের দাবি শীর্ষ আলেমদের
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:২৮ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্রান্সজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা বাতিল এবং হিজবুত তাওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটি। একই সঙ্গে কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা, শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করাসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় উলামা-মাশায়েখ কনভেনশনে দেশের শীর্ষ আলেমরা এসব দাবি জানান।

মাওলানা আব্দুল আউয়াল পীর সাহেব ডিআইটির সভাপতিত্বে এবং মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন ও মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর যৌথ সঞ্চালনায় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও শায়খে চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াস গুম্মান।

কনভেনশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, আল্লামা নুরুল ইসলাম অলিপুরী, মুফতি মুহাম্মদ আবুল মালেক, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী পীর সাহেব দেওনা, মুফতি জসিম উদ্দিন হাটহাজারী, হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা শায়েখ সাজিদুর রহমান, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী ও মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম-ওলামা।

বক্তারা বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঈমান-আকিদা, ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় চেতনা রক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। বিভিন্ন নামে ও মতাদর্শে পরিচালিত বিভ্রান্তিকর ও ইসলামবিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আলেম-ওলামা, ইসলামী চিন্তাবিদ ও ধর্মপ্রাণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে সচেতন হতে হবে।

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা শায়েখ সাজিদুর রহমান বলেন, হিজবুত তাওহীদ দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর মতবাদ প্রচারের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। সংগঠনটির কার্যক্রম ও মতাদর্শ দেশের শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং ইসলামী আকিদা-বিশ্বাসের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে তদন্ত করে সংগঠনটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং তা নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তিনি।

মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান হানাফি মাজহাবের অনুসারী। তিনি বলেন, দেশের মানুষ সালাফি শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে চায় না। প্রয়োজনে তাকে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ড. সরোয়ার বলেন, সংসদে পাস হওয়া ট্রান্সজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইন দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই আইনটি বাতিল করতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে কোনো বিতর্কিত আদর্শ বা মূল্যবোধ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, ইসলামী মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক অধিকার সমুন্নত রেখে সমাজে নৈতিকতা, শালীনতা ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষায় রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা-বিশ্বাস সংরক্ষণে জাতীয়ভাবে গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

কনভেনশনে আরও বক্তব্য দেন মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মাহবুবুল্লাহ কাসেমী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুফতি আবু সাঈদ নোমান, মুফতি জাবের কাসেমী, মুফতি মোহাম্মদ আলী আফতাবনগর, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান, মুফতি বশির উল্লাহ, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মাওলানা আবু আম্মার আব্দুল্লাহ, মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী, মাওলানা রশিদ বিন ওয়াক্কাস, মুফতি ওয়াহিদুল আলম উত্তরা, মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, মুফতি রেজাউল করিম আবরার, মুফতি শামসুদ্দীন কাসেমী, মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, মাওলানা নোমান আহমদ, মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী, মুফতি আল আমিন কাসেমী, মাওলানা নাজমুল হাসান বিন নূরী, মাওলানা হিফজুর রহমান ও সাব্বির মাযহারীসহ অনেকে।

আইও/