
|
রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ট্রান্সজেন্ডারবাদ প্রত্যাখানের দাবি ড. সরোয়ারের
প্রকাশ:
২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৩১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
চবি ক্যাম্পাস প্রতিনিধি: বাংলাদেশে শব্দের মারপ্যাঁচে এলজিবিটি তথা সমকামিতা বৈধ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে মন্তব্য করেছেন, মূল্যবোধ আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, দেশে পরিবার ও ঈমান বিধ্বংসী ট্রান্সজেন্ডারবাদ ও সমকামিতা প্রতিষ্ঠার চক্রান্ত চলছে। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার জন্য ট্রান্সজেন্ডারবাদ প্রত্যাখান করে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ‘দ্বি-লিঙ্গ নীতি’ চাই। ট্রান্সজেন্ডারবান্ধব সংশোধিত শ্রম আইন ২০২৬ বাতিলের পাশাপাশি আমরা সরকারের সব স্তরে দ্বি-লিঙ্গ নীতির দাবি জানাই। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত জাতীয় উলামা-মাশায়েখ কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন। ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন বলেন, আজকের এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে সংশোধিত শ্রম আইন ২০২৬ বাতিলের পাশাপাশি আমরা সরকারের সব স্তরে দ্বি-লিঙ্গ নীতির দাবি জানাচ্ছি, যেখানে— ২. সকল প্রকার সরকারি নীতি, নথি, ফরম ও পরিচয়পত্রে কেবলমাত্র ‘লিঙ্গ’ শব্দটি (জৈবিক লিঙ্গ বা Sex অর্থে) ব্যবহৃত হবে; ‘জেন্ডার’ শব্দ বা জেন্ডার পরিভাষা ব্যবহার করা যাবে না। ৩. জেন্ডারবাদকে চরমপন্থা হিসেবে চিহ্নিত করে তা প্রতিহত করতে হবে। মূল্যবোধ আন্দোলনের চেয়ারম্যান ড. সরোয়ার বলেন, অগণিত ইসলামপ্রেমিক জনতার রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডে ইসলামের মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক এলজিবিটি গোষ্ঠীর প্রতি সুস্পষ্ট পৃষ্ঠপোষকতা বিদ্যমান ছিল। যার মধ্যে রয়েছে- ১. ঈদ শোভাযাত্রায় সমকামিতার প্রতীক ইউনিকর্নের প্রদর্শনী, তিনি বলেন, ড. ইউনূস সরকারের এই সব পদক্ষেপ ট্রান্সজেন্ডার ও এলজিবিটি গোষ্ঠীর দুঃসাহসকে এই পরিমাণে বাড়িয়ে দিয়েছিল যে একজন ট্রান্সজেন্ডার প্রকাশ্যে দু’জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ মাহতাব ও আমাকে (ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন) হত্যার হুমকি ও উসকানি দিয়েছে, তাদের মাথা কেটে তা দিয়ে ফুটবল খেলার স্পর্ধা দেখিয়ে কার্টুন এঁকেছে। একাধিকবার জিডি করার পরও সে যে কেবল ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গিয়েছে তা-ই নয়, প্রকাশ্যে শহীদ মিনারে সমকামী বিয়ের দাবিতে অনশন করেছে। ড. সরোয়ার বলেন, সেই ইউনূস সরকারের জারিকৃত ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বর্তমান সরকার প্রশ্নহীনভাবে পাস করেছে। এই সংশোধিত শ্রম আইন ২০২৬-এ কোনো প্রকার স্পষ্ট সংজ্ঞা প্রদান ছাড়াই ‘জেন্ডার’, ‘জেন্ডার পরিচয়’ বা ‘লিঙ্গ পরিচয়’, ‘জেন্ডার অভিব্যক্তি’, ‘বৈষম্যমূলক জেন্ডার সংবেদনশীলতা’ কিংবা ‘জেন্ডারভিত্তিক অন্যান্য আচরণ’—এই এলজিবিটিবান্ধব পরিভাষাগুলো সংযোজন করা হয়েছে; ফলে ট্রান্সজেন্ডারবাদ ও সমকামিতা পরোক্ষভাবে বৈধতা পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিককালে একদিকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রকাশ্যে সমকামী বিয়ের আয়োজন হলো, প্রশাসন নির্বিকার। আবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিবিএস এলজিবিটি নীতি গ্রহণ করেছে, তারা ট্রান্সজেন্ডারকেও হিজড়া হিসেবে বিবেচনা করার নীতিমালা ঘোষণা দিয়েছে। অথচ এটা এখন সবাই জানে যে হিজড়া হচ্ছে জন্মগত লিঙ্গ প্রতিবন্ধী, অন্যদিকে ট্রান্সজেন্ডার হচ্ছে নারী সাজা জন্মগত পুরুষ বা পুরুষ সাজা জন্মগত নারী। ‘অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ইনক্লুসিভ শিক্ষার কথা বলছেন, Play Lab মডেলের কথা বলছেন। যে Gender Transformative Approach থেকে শরীফ-শরীফার গল্পটি জন্ম নিয়েছিল, সেই একই অ্যাপ্রোচে Play Lab মডেলটি সাজানো হয়েছে।’ ড. সরোয়ার বলেন, আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই— জেন্ডার শব্দ বা জেন্ডার পরিভাষা সম্পূর্ণরূপে সমকামী-বান্ধব, ইনক্লুসিভ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক টার্ম সম্পূর্ণরূপে সমকামী-বান্ধব। এটা কেউ তা অস্বীকার করতে চাইলে আমরা তাকে ওপেন ডিবেটের চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি। তিনি বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা জানাতে চাই, ১. বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নারী-পুরুষের বাইরে আর কোনো লিঙ্গের স্বীকৃতি নেই। পাসপোর্ট থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় কোনো ফরমে ‘নারী-পুরুষ’-এর বাইরে আর কোনো অপশন নেই। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, মালয়েশিয়া সহ ওআইসি এবং মুসলিম বিশ্ব জেন্ডারবাদের বিপক্ষে। অন্যদিকে জেন্ডারবাদের পক্ষে রয়েছে মূলত জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। লিবিয়ার শরিয়া রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ কাউন্সিল ‘সামাজিক লিঙ্গ’ তথা ‘Gender’ পরিভাষার ব্যবহার হারাম ঘোষণা করেছে। জেন্ডারবাদ থেকে উদ্ভূত ট্রান্সজেন্ডারবাদকে কুফরি আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ, সৌদি আরব এবং ওআইসির ফতোয়া বোর্ডসহ বিশ্বের বড় বড় ইসলামিক প্রতিষ্ঠানসমূহ। আইও/ |