
|
একটি নির্ভীক কণ্ঠস্বর স্তব্ধ হয়ে গেল!
প্রকাশ:
২৯ জুন, ২০২৬, ০৬:৪৯ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
|| সলিমুদ্দীন মাহদী কাসেমী || আজ সোমবার (২৯ জুন) ফজরের নামাজের ঠিক আগমুহূর্তে, ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, বাগ্মী, মুহাদ্দিস ও ইতিহাসবিদ হজরত মাওলানা সাইয়িদ সালমান হুসাইনী নদভী (রহ.) (১৯৫৪-২০২৬) নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর ইন্তেকালের মাধ্যমে একটি অকৃত্রিম, নির্ভীক ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর স্তব্ধ হয়ে গেল। সেই কণ্ঠস্বর সম্পর্কে এক ফিলিস্তিনি আলেম নদওয়ার মসজিদে বলেছিলেন, ‘যখন শায়খ কথা বলেন, তখন তাঁর জোরালো কণ্ঠস্বর আমাদের কাছেও পৌঁছে যায় এবং আমরা অনুপ্রেরণা লাভ করি।’ আজ সত্যিই একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। হজরত (রহ.) উত্তরপ্রদেশের লখনৌয়ের ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার এক সুপ্রসিদ্ধ ইলমি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ সা.-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হুসাইন (রা.)-এর পবিত্র বংশধর। তাঁর মা ছিলেন হজরত সাইয়িদ আবদুল আলী হাসানী (রহ.)-এর কন্যা এবং বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ আল্লামা সাইয়িদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর ভ্রাতুষ্পুত্রী। এভাবেই তিনি এক গৌরবোজ্জ্বল ইলমি ও রুহানি ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী ছিলেন। শৈশবেই তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। ১৯৭৬ সালে দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা থেকে হাদিসশাস্ত্রে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সৌদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করেন। তিনি ছিলেন যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস শাইখ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহ.)-এর অন্যতম কৃতী ছাত্র। তিনি দীর্ঘকাল দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় হাদিস, ফিকহ ও দাওয়াহ বিভাগের অধ্যাপক এবং ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল' বোর্ডের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ‘জমিয়াতুশ শাবাবিল ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে জামিয়াতুল ইমাম আহমদ ইবনে ইরফান শাহীদ-এর চ্যান্সেলরসহ বহু শিক্ষা, দাওয়াহ ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন। উর্দু ও আরবি ভাষায় তাঁর ছিল অসাধারণ দখল। তিনি অসংখ্য মূল্যবান গ্রন্থের রচয়িতা এবং দেশ-বিদেশে জ্বালাময়ী, প্রাঞ্জল ও গবেষণাধর্মী বক্তৃতার জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত ছিলেন। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামের পুনর্জাগরণ এবং দীনি চেতনা জাগ্রত করার লক্ষ্যে তিনি আজীবন নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। আহলে বাইতের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে তাঁর ইজতিহাদি পদস্খলন হয়েছে বলে আলেমসমাজে সমালোচনা হয়েছে। এর ফলে জীবনের শেষ পর্যায়ে তাঁকে নদওয়াতুল উলামা থেকে দূরে সরে যেতে হয়। তবে তাঁর দীর্ঘ ইলমি খেদমত, দাওয়াহ, রচনা ও উম্মাহর জন্য অবদান সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আজ আসরের নামাযের পর মালিহাবাদের জামিয়াহ্ সাইয়িদ আহমদ শহীদ, কাটুলিতে তাঁর জানাযাহ্ ও দাফন সম্পন্ন হবে। إِنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَلَهُ مَا أَعْطَى، وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمًّى. اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَاعْفُ عَنْهُ وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ وَأَسْكِنْهُ فَسِيحَ جَنَّاتِكَ، وَارْفَعْ دَرَجَتَهُ فِي الْمَهْدِيِّينَ. آمين. আল্লাহ তাআলা হযরতের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিন, তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন, জান্নাতুল ফিরদাউসে সুউচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং তাঁর ইলম, দাওয়াহ ও দীনের খেদমতকে উম্মাহর জন্য সদকায়ে জারিয়াহ হিসেবে কবুল করুন। আমিন। লেখক: তত্ত্বাবধায়ক, তাফসির বিভাগ, জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া আইও/ |