ভারতের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সালমান হোসাইনী নদভী আর নেই
প্রকাশ: ২৯ জুন, ২০২৬, ০৪:০৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

উপমহাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক, লেখক ও দাঈ মাওলানা সাইয়্যিদ সালমান হোসাইনী নদভী ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্মৌতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর মৃত্যুতে ভারতসহ সমগ্র উপমহাদেশের ধর্মীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজ আসরের নামাজের পর ভারতের উত্তর প্রদেশের মালিহাবাদের কাটৌলি এলাকায় অবস্থিত জামিয়া সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ-এ তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে।

১৯৫৪ সালে ভারতের লখনউর এক খ্যাতিমান ধর্মীয় ও বিদ্বৎ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সালমান হোসাইনী নদভী। শৈশব থেকেই ইসলামি জ্ঞান, গবেষণা ও অধ্যয়নের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামা থেকে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন এবং একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে ইসলামি জ্ঞানে সমৃদ্ধ করেন।

মাওলানা নদভী আরবি ভাষা, ইসলামের ইতিহাস এবং সিরাতে নববী (সা.) বিষয়ে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্যের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তিনি শুধু শ্রেণিকক্ষেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামের দাওয়াত, আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং মুসলিম উম্মাহর সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।

আরবি ও উর্দু ভাষায় তাঁর অসংখ্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সিরাতে রাসূল (সা.), ইসলামের ইতিহাস, দাওয়াত, মুসলিম বিশ্বের পরিস্থিতি এবং সমসাময়িক নানা বিষয়ে তাঁর গবেষণাধর্মী রচনা পাঠকমহলে ব্যাপক সমাদৃত। তাঁর লেখনীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ইতিহাসবোধ, ভাষার সৌন্দর্য এবং চিন্তার গভীরতা।

মাওলানা সালমান হুসাইনি নাদভী ছিলেন একজন প্রাঞ্জল ও হৃদয়স্পর্শী বক্তা। ইসলামের ইতিহাস ও অতীতের ঘটনাবলি তিনি এমনভাবে উপস্থাপন করতেন, যাতে শ্রোতারা যেন সেই সময়ের বাস্তবতা অনুভব করতে পারতেন। তাঁর বক্তৃতায় উম্মাহর কল্যাণচিন্তা, ইসলামি পুনর্জাগরণের আহ্বান এবং ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ বিশেষভাবে প্রতিফলিত হতো। তিনি মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.-এর নিকটাত্মীয় ছিলেন। চিন্তাধারা ও বাগ্মিতায় তিনি সেই উত্তরাধিকার ধারণ করতেন।

জীবনের শেষ কয়েক বছরে তাঁর কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলেমসমাজে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-সম্পর্কিত কয়েকটি মতামত নিয়ে আহলে সুন্নাতের বহু শীর্ষ আলেম সমালোচনামূলক অবস্থান গ্রহণ করেন। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠজন ও সমর্থকদের দাবি ছিল, তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ প্রসঙ্গবিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব মতভেদ সত্ত্বেও শিক্ষা, গবেষণা ও লেখালেখিতে তাঁর দীর্ঘ কয়েক দশকের অবদান ইসলামি জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

আইও/