হেফাজতের সন্দেহ দূর করতে আলেম-উলামাদের সঙ্গে কথা বলব: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী লিংকন
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৪৫ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

|| শরিফ হাসানাত || 

নিয়োগ নিয়ে হেফাজতে ইসলামের সমালোচনা ও প্রশ্নকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী লিংকন। তিনি বলেছেন, আলেম-উলামাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের কোনো সংশয় বা ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা দূর করা হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দায়িত্ব গ্রহণের পর এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি গতকালও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসায় গিয়েছি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলামের উলামায়ে কেরামের সঙ্গে কথা হয়েছে। নির্বাচনে মানুষ কোনো একটি দলকে শতভাগ ভোট দেয় না, পছন্দ-অপছন্দের বিষয় থাকতে পারে। ঠিক তেমনি একটি নিয়োগের ক্ষেত্রেও শতভাগ মানুষ পছন্দ করবে—এমনটিও নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমি এই মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট কাজও করেছি। তাই ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে যত যোগাযোগ বাড়বে, কোনো ভুল বোঝাবুঝি থাকলে সেগুলো নিরসন হবে ইনশাআল্লাহ।’

নিয়োগ নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় তৈরি হয়ে থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে দূর করার আশাবাদ ব্যক্ত করে লিংকন বলেন, ‘একই কথা সরাসরি পরিষ্কার করা সম্ভব না হলে অথবা অর্ধেক বা মিশ্রিত কথা গেলে অন্যভাবে প্রকাশ হতে পারে। সে রকম কোনো সংশয় যদি থাকে, গতকাল আমি আলেম-উলামাদের সঙ্গে বসেছি, তাদের কিছু প্রশ্ন শুনেছি। আমার বিশ্বাস, আমি সন্তোষজনক জবাব দিতে পেরেছি। উনারা আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘সবেমাত্র নিয়োগের ঘোষণা হয়েছে। আমি আজকে আসলাম। জ্ঞান নিজে জিয়ারত করে আসে না, তার কাছে যেতে হয়। আমি ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের প্রথিতযশা ওলামায়ে কেরাম যারা আছেন, বিভিন্ন মতের যারা আছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব।’

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শুধু ইসলাম ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের নেতৃবৃন্দ ও ধর্মগুরুদের কাছেও যাওয়ার দায়িত্ব রয়েছে।

বিভিন্ন মতের সহাবস্থান নিয়েই বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ধর্মীয় মূল্যবোধগুলো নিয়ে কাজ করে। কেবল ইসলাম ধর্ম নয়, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের নেতৃবৃন্দ ও ধর্মগুরু যারা আছেন, তাদের কাছে যাওয়াটাও আমার দায়িত্ব। ইনশাআল্লাহ আমি সবার কাছেই যাব, কথা বলব। আশা করি, সন্দেহটা দূর হবে, বলেন তিনি।

মন্ত্রণালয়ের মিশন ও ভিশন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে লিংকন বলেন, ‘আমাদের মিশন এবং ভিশনকে সামনে রেখে যা যা করা দরকার, তা করব। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব অনেক বেশি। আকারে বা বাজেটে মন্ত্রণালয়টি বড় না হলেও এর প্রভাব ও সামাজিক মূল্য অনেক বেশি।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে কারও কিছু জানার থাকলে বা তাদের কাছে গেলে সংশয় দূর হয়ে যাবে। এবং তা মোটামুটি হচ্ছে।”

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভিশন তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন অসাম্প্রদায়িক সমাজ” প্রতিষ্ঠা করা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন যে ধর্মবিষয়ক একটি মন্ত্রণালয় থাকা দরকার। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ধর্মপ্রাণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যদি নিজ নিজ ধর্ম সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারে এবং তা ধারণ করে, তাহলে দেশে সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য আরও বাড়বে।

মন্ত্রণালয়ের মিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিকাশের মাধ্যমে উদার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিপূর্ণ সর্বজনীন সমাজ প্রতিষ্ঠা” করাই এর লক্ষ্য।

লিংকন বলেন, “ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বক্তব্য থাকবে—সকল ধর্মের এবং মতের মানুষ তাদের কথা বলতে পারে। আমাদের চেষ্টা ও সহযোগিতা থাকবে। এটা আসলে একা করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, সব ধর্ম ও মতের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদারে কাজ করবেন।

আইও/