‘শিক্ষার্থী না থাকায় খালি থেকে যাচ্ছে পলিটেকনিক-ভোকেশনাল’ 
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:১১ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

দেশে কারিগরি শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কম থাকায় পলিটেকনিক ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খালি থেকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর সোবহানবাগে ‘দক্ষ ও উৎপাদনশীল বাংলাদেশের লক্ষ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর কোনো কারিগরি দক্ষতা নেই। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের জন্য কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ রয়েছে। দক্ষতার অভাবে এসব সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।

দেশের উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এ খাতকে আরও অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষা দেশের সবচেয়ে অবহেলিত খাতগুলোর একটি। এই খাতকে এগিয়ে নেওয়া ছাড়া বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। আগামীর বাংলাদেশকে দক্ষ ও শক্তিশালী করতে পলিটেকনিক ও ভোকেশনাল শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের এই ধারার শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পলিটেকনিক ও ভোকেশনাল সেক্টরগুলো পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় খালিই থেকে যাচ্ছে।

এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের জনশক্তিকে দক্ষ করে তুলতে স্কিল ডেভেলপমেন্টের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তবে শুধু কারিগরি দক্ষতা অর্জন করলেই হবে না, এর সঙ্গে ভাষাগত দক্ষতাও বাড়াতে হবে। দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞান বাড়াতে পারলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য থাকা কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

কারিগরি শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। অথচ হাজার হাজার মানুষের বিদেশে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে সেই সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ বা ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া লিংকেজের কথা দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বাস্তবায়ন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। কারিগরি শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় অতীব জরুরি।

কারিগরি শিক্ষার পাঠ্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, টেকনিক্যাল এডুকেশনকে কেন সামনের দিকে এগোতে দেওয়া হচ্ছে না, এটাই প্রশ্ন। আমি নিজেই বুঝি না, আমাদের কারিকুলাম কীভাবে এখনো টিকে আছে। এ খাতকে আধুনিক ও কর্মমুখী করতে বাস্তবভিত্তিক পরিবর্তন প্রয়োজন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা করে কারিগরি শিক্ষার পরিবর্তন সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কারিগরি শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ খাতে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বুয়েটের বাজেট আরও বাড়ানো প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন আরও চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আইও/