জমজম পানি: স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক ও বাস্তবতা
প্রকাশ: ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:৩০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

২০১১ সালের মে মাসে বিবিসি লন্ডন একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করে, যুক্তরাজ্যের বাজারে ‘জমজম’ নামে বিক্রি হওয়া কিছু পানির নমুনায় নাইট্রেট, আরসেনিক এবং কিছু ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, এসব পানি নিয়মিত পান করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ওই প্রতিবেদনের নমুনাগুলো মসজিদুল হারামের জমজম কূপ থেকে সরাসরি সংগৃহীত পানি ছিল না; বরং যুক্তরাজ্যের বাজারে বিক্রি হওয়া তথাকথিত ‘জমজম’ পানির বোতল থেকে নেওয়া হয়েছিল। ফলে সেগুলোর উৎস ও বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

এর পরপরই ব্রিটিশ হজ কাউন্সিল বিবিসির প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জানায়, সৌদি আরব থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সরবরাহকৃত আসল জমজমের পানি নিরাপদ। তারা আরও উল্লেখ করে, সৌদি সরকার বাণিজ্যিকভাবে জমজমের পানি বিক্রির অনুমতি দেয় না। বাজারে যেসব বোতলজাত ‘জমজম’ বিক্রি হয়, তার অনেকগুলোই অননুমোদিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কোনো ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো উচিত।

এ বিষয়ে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও স্পষ্ট বক্তব্য দেয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমজমের পানির নমুনা নিয়মিত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরীক্ষা করা হয়। ফ্রান্সের অনুমোদিত পরীক্ষাগারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় দেখা গেছে, জমজম কূপ থেকে সংগৃহীত পানিতে আরসেনিকের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নির্ধারিত নিরাপদ সীমার অনেক নিচে। তাই এ পানি মানবদেহের জন্য নিরাপদ।

এছাড়া সৌদি জিওলজিক্যাল সার্ভে (Saudi Geological Survey) জানিয়েছে, জমজমের পানির গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রতিদিন একাধিকবার নমুনা সংগ্রহ করে আধুনিক পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হয়। মক্কার বাদশাহ আবদুল্লাহ জমজম পানি বিতরণ কেন্দ্র-এ উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পানির বিশুদ্ধতা, রাসায়নিক গঠন এবং জীবাণুমুক্ততা নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, স্বাস্থ্যঝুঁকির যেসব অভিযোগ একসময় আলোচনায় এসেছিল, সেগুলো মূলত অননুমোদিতভাবে বাজারে বিক্রি হওয়া তথাকথিত ‘জমজম’ পানিকে কেন্দ্র করে। পক্ষান্তরে, মসজিদুল হারামের জমজম কূপ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিতরণ করা পানির বিশুদ্ধতা ও নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করে আসছে।

মূল: মাওলানা আব্দুর রহমান কাওসার মাদানী
অনুবাদ: শরিফ হাসানাত

এসএইচ/