‘মাদরাসা ছাত্রদের ওপর পুলিশি হামলা বিগত ফ্যাসিবাদী আচরণ স্মরণ করিয়ে দেয়’
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৪২ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদরাসা ছাত্রদের ওপর গভীর রাতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও ছররা গুলি নিক্ষেপের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম।

বুধবার (১৯ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলা ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ এবং এটি বিগত ১৭ বছরের ঘটনাপ্রবাহকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুলিশ লাইন্স এলাকায় উচ্চ শব্দে গান-বাজনার কারণে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম ব্যাঘাত হচ্ছিল। এ কারণে তারা সাউন্ড কমানো বা অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার অনুরোধ জানাতে সেখানে যায়। কিন্তু তাদের কথা শোনার পরিবর্তে পুলিশের একটি অংশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও ছররা গুলি নিক্ষেপ করে। এতে মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থীসহ অনেকে আহত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ হলো জনগণের বন্ধু। অথচ পুলিশই যখন শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত করে, তখন তা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গের শামিল। প্রশাসনে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের এমন আচরণে দেশবাসী ক্ষুব্ধ।’

ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা আরও বলেন, পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীরা কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে সেখানে যায়নি। বরং পরীক্ষার প্রস্তুতির স্বার্থে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা বন্ধ বা সাউন্ড কমানোর অনুরোধ জানাতেই তারা সেখানে গিয়েছিল। তাদের অনুরোধের জবাবে নির্বিচারে লাঠিচার্জ ও ছররা গুলি চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি ঘটনাটিকে ‘পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রতিশোধপরায়ণতার অপচেষ্টা’ উল্লেখ করে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। দায়ী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে দ্রুত বরখাস্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আইও/