দেশ চলে ভালোবাসা ও সম্প্রীতিতে, ঘৃণায় নয়: মাওলানা আরশাদ মাদানী
প্রকাশ: ২৪ জুন, ২০২৬, ০৭:২৬ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

ভারতে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, মাদরাসা-মসজিদে বুলডোজার অভিযান এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া পরিবেশ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা সৈয়দ আরশাদ মাদানী। তিনি বলেছেন, কোনো দেশ ঘৃণা ও বিদ্বেষের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না; দেশ পরিচালিত হয় ভালোবাসা, সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে উত্তরাখণ্ডের পীরান কালিয়ারে অনুষ্ঠিত জমিয়তে উলামায়ে উত্তরাখণ্ডের প্রাদেশিক কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা মাদানী বলেন, সরকার ও রাজনৈতিক শক্তি আসে-যায়, কিন্তু চিরস্থায়ী ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহর। তিনি অভিযোগ করেন, যেসব মাদরাসা, মসজিদ ও আলেম ভারত স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, আজ সেসব প্রতিষ্ঠানই বিভিন্নভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

দারুল উলুম দেওবন্দের প্রখ্যাত এই মুহাদ্দিস বলেন, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ শুধু একটি সংগঠন নয়; এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংগঠনের পূর্বসূরি আলেমরা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে কারাবরণ করেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং জীবন উৎসর্গ করেছেন, কিন্তু কখনো মাথানত করেননি।

স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলিম আলেমদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ থেকে শুরু করে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত আলেমরা সামনের সারিতে ছিলেন। অথচ আজ কিছু গোষ্ঠী মুসলমানদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, যা ইতিহাসের বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মাদরাসা ও মসজিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে পরিচালিত বুলডোজার অভিযানকে তিনি অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে বলেন, এসব পদক্ষেপ সংবিধান ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

দেশে ঘৃণার রাজনীতি বাড়ছে উল্লেখ করে মাওলানা মাদানী বলেন, একটি পরিবার যেমন বিদ্বেষের ওপর টিকে থাকতে পারে না, তেমনি একটি দেশও পারে না। ভারতের গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতি যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক হয়ে আছে। এ ঐতিহ্য রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।

তিনি হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের দায়িত্ব হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা। ঘৃণার জবাব ঘৃণায় নয়, ভালোবাসার মাধ্যমেই দিতে হবে।

সভায় উপস্থিত হাজারো মানুষের কাছ থেকে তিনি সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের অঙ্গীকারও নেন।

এদিকে সভায় শিক্ষা সম্প্রসারণ, মাদরাসা ও মসজিদের সুরক্ষা, ওয়াক্ফ সম্পত্তি রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্য জোরদারের লক্ষ্যে একাধিক প্রস্তাব গৃহীত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মাদরাসা থেকে ফারেগ হওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে উত্তরাখণ্ডের সভাপতি মাওলানা হুসাইন আহমদ কাসেমী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরাফত আলী কাসেমী, সহ-সভাপতি মুফতি ইকরাম, মাওলানা আবদুর রাজ্জাক দেহলভী, মাওলানা আবদুল ওয়াহিদ, মাওলানা আবদুল মান্নান কাসেমী, মাওলানা জিয়াউর রহমান, মাওলানা মুকিমসহ বিভিন্ন জেলার দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

আইও/