প্রথমবার তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
প্রকাশ: ২৩ জুন, ২০২৬, ০৪:৫২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

অভিবাসন ও প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের প্রত্যাবাসন নিয়ে প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বেলজিয়াম সরকার জানিয়েছে, নিরাপত্তা যাচাই শেষে তালেবান প্রতিনিধি দলের পাঁচ সদস্যকে এক দিনের জন্য বিশেষ ভিসা প্রদান করা হয়েছে, যাতে তারা আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।

ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে অনিয়মিত অভিবাসন এবং ইউরোপে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া আফগান নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বৈঠকের প্রধান আলোচ্যসূচি। তবে বৈঠকে অংশ নেওয়া তালেবান প্রতিনিধিদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও চলাচলের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রয়েছে তালেবান সরকার। এসব কারণে ইউরোপের অধিকাংশ দেশ এখনো তালেবান প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি এবং কাবুলে তাদের কূটনৈতিক কার্যক্রম সীমিত রেখেছে।

ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র মার্কাস ল্যামার্ট বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলো বিশেষ করে গুরুতর অপরাধে জড়িত বা নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা খুঁজছে। এ লক্ষ্যেই আফগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালানো হচ্ছে।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, তালেবান সরকারের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনা বা সহযোগিতার ক্ষেত্রে মানবাধিকার, নারী অধিকার এবং জবাবদিহিতার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সতর্ক করে বলেছে, মানবাধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা ছাড়া এমন উদ্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও। সংস্থাটির মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আফগান নাগরিকদের জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় অভিবাসন কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেছেন, অভিবাসন ব্যবস্থাপনার বাস্তবতা বিবেচনায় আফগানিস্তানের বর্তমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ আফগান নাগরিক ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপে অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ায় আশ্রয় অনুমোদনের হার কমে এসেছে।

এদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য বলছে, আফগানিস্তানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এমন মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই আফগানদের প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে জটিল নীতিগত ও মানবিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

আইও/