
|
কুরআন-হাদিসের আলোকে জামাতের গুরুত্ব
প্রকাশ:
১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৬ রাত
নিউজ ডেস্ক |
|| ইমরান ওবাইদ || সুস্থ, সক্ষম প্রত্যেক বালেগ পুরুষের জন্য জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা আবশ্যক। প্রতিদিন ২৪টি ঘণ্টা আল্লাহ তাআলা আমাদের দান করেন। জীবিকার সন্ধান, অধীনস্তদের দায়িত্ব আদায়ে দিনের অনেকটা সময় আমাদের নানামুখী কাজে নিয়োজিত থাকতে হয়। দৌড়ঝাঁপ, বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দিন শেষে অনেকের ক্লান্তিতে নুয়ে পড়ার জোগাড়। তবে এর মধ্য থেকেও দিন-রাত মিলিয়ে সেই মালিকের জন্য ঘণ্টা দেড়েক সময় বের করা তেমন কোনো কঠিন ব্যাপার নয়। বরং আমাদের জন্য আবশ্যক—যে মালিক আমাদের সময় দান করেছেন এবং সুস্থ রেখেছেন তাঁর জন্য শত ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করা। তাঁর বন্দিগিতে নিজেকে নিয়োজিত রাখা। জামাতে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব: জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব ও উপকারিতা অনেক। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা জামাতের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো, জাকাত আদায় করো এবং রুকূকারীদের সঙ্গে রুকূ করো।’ (সুরা বাকারা: ৪৩) হাদিসে আছে, হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আজান দেওয়া এবং প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মধ্যে যে কী মর্যাদা আছে, তা যদি মানুষ জানত, তাহলে তা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনে তারা লটারি করত। জোহরের নামাজের কী মর্যাদা, তা যদি তারা জানত, তাহলে তা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনে তারা প্রতিযোগিতায় লেগে যেত। এশা ও ফজরের নামাজে কী মর্যাদা আছে, তা যদি জানতে পারত, তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এসে নামাজে উপস্থিত হতো।’ (সহিহ মুসলিম: ৮৬৭) মুসলমানদের আইডল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো জামাত ছাড়েননি। শেষ জীবনের ক্রান্তিলগ্নের মুমূর্ষু অবস্থায়ও জামাতে নামাজ পড়েছেন। তীব্র অসুস্থতায় বারবার মূর্ছা যাওয়ার সময়ও চেতনা ফিরলেই অস্থির হয়ে যেতেন নামাজের জন্য। মৃত্যুযন্ত্রণার সেই কঠিন মুহূর্তেও সাহাবিদের কাঁধে ভর করে হাজিরা দিয়েছেন আল্লাহর ঘরে। হজরত আবু বকর (রা.)-এর ইমামতিতে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন। এক হাদিসে জামাতে উপস্থিত না হওয়ার ব্যাপারে কঠিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি আজান শুনল এবং তার কোনো অপারগতা না থাকা সত্ত্বেও জামাতে উপস্থিত হলো না, তার সালাত হবে না।’ (ইবনে মাজাহ: ৭৯৩) জামাতের গুরুত্ব আরও কঠিনভাবে উপলব্ধি করা যায় পবিত্র কুরআনের আরেকটি আয়াতের মাধ্যমে। যেখানে আল্লাহ তাআলা যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তেও জামাতের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘এবং (হে নবী,) আপনি যখন তাদের মধ্যে উপস্থিত থাকেন ও তাদের নামাজ পড়ান, তখন (শত্রুর সঙ্গে মোকাবিলার সময় তার নিয়ম এই যে) মুসলিমদের একটি দল আপনার সঙ্গে দাঁড়াবে এবং নিজেদের অস্ত্র সঙ্গে রাখবে। অতঃপর তারা যখন সেজদা করে নেবে, তখন তারা তোমাদের পেছনে চলে যাবে এবং অন্য দল, যারা এখনো নামাজ পড়েনি, সামনে এসে যাবে এবং তারা আপনার সঙ্গে নামাজ পড়বে। তারাও নিজেদের আত্মরক্ষার উপকরণ ও অস্ত্র সঙ্গে রাখবে।’ (সুরা নিসা: ১০২) জামাতে নামাজ আদায়ের ফজিলত: জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের ফজিলতও অনেক। এক ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করার গুরুত্ব ও সওয়াব একাকী নামাজ আদায় করার চেয়ে ২৭ গুণ বেশি। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের ফজিলত একাকী নামাজ আদায়ের চেয়ে ২৭ গুণ বেশি।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪৫) জামাতের প্রথম তাকবিরের সঙ্গে নামাজ আদায় করার ব্যাপারেও অনেক সুন্দর একটা হাদিস হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন তাকবিরে উলার (প্রথম তাকবির) সঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করবে তার জন্য দুটি মুক্তির পরোয়ানা লেখা হবে। এক. জাহান্নাম থেকে মুক্তি। দুই. নেফাক থেকে মুক্তি।’ (তিরমিজি শরিফ: ২৪১) আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মুসলমানকে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। পাশাপাশি জামাতে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব বোঝার এবং তার ফজিলতগুলো অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন। লেখক: সাব-এডিটর, আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর আইও/ |