
|
সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে কড়াকড়ি, ৩ দিনের মধ্যে তথ্য দেওয়ার নির্দেশ
প্রকাশ:
১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৪২ রাত
নিউজ ডেস্ক |
দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ চাল রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগে অনুমোদন দেওয়া রপ্তানি কোটা পুনর্বিবেচনা করে তা কমানো বা প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয়ের পরিকল্পনা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তারা প্রকৃতপক্ষে কত পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে রপ্তানি করেছে, সে-সংক্রান্ত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, সুগন্ধি চালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আগে দেয়া রপ্তানি অনুমোদনের পরিমাণ হ্রাস বা সমন্বয় করা প্রয়োজন। এ জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রকৃত রপ্তানির পরিমাণের বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে। মূলত, যেসব প্রতিষ্ঠান অনুমতি পাওয়ার পরও নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারেনি কিংবা আংশিক রপ্তানি করেছে, এই নির্দেশনার ফলে তাদের অব্যবহৃত কোটা পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে। এর আগে গত ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি ও রপ্তানির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করা হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রথম দফায় গত ১৩ মে ২১১টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৬৭টিসহ মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত ওই সভায় জানানো হয়, অনুমতি পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী চাল রপ্তানি করতে পারেনি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আংশিক রপ্তানি করেছে। ফলে অনুমোদিত কোটা ও প্রকৃত রপ্তানির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রকৃত রপ্তানির হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সভায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশের শীর্ষ ১০টি বড় মিল মালিকের কাছে বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুদ রয়েছে। বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী চাল না ছেড়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার কারণেই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে বলেও অভিযোগ তাদের। এরই ধারাবাহিকতায় সব পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনার পর বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর তদারকির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বাজার মনিটরিং আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে রপ্তানির অনুমতি পেয়েও যারা নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে রপ্তানি করতে পারেনি, তাদের অব্যবহৃত কোটা বহাল রাখার যৌক্তিকতাও পর্যালোচনা করবে সরকার। এ জন্যই জরুরি ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রকৃত রপ্তানির তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব তথ্য যাচাইয়ের পর অনুমোদিত রপ্তানি কোটা কমানো বা সমন্বয়ের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর মাধ্যমে একদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে সুগন্ধি চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অন্যদিকে প্রকৃত সক্ষম রপ্তানিকারকদের সুযোগ অব্যাহত রাখার মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছে সরকার। এসএইচ/ |