মসজিদ-মাদরাসা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের
প্রকাশ: ২১ জুন, ২০২৬, ১১:১৯ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক-

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মসজিদ, দরগাহ ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সংগঠনটি এ ঘটনাকে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ইবাদতের অধিকার এবং সংবিধানপ্রদত্ত নাগরিক অধিকারের ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করতে সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানীর নির্দেশে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল শনিবার (২০ জুন) রাজস্থানে সফর করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মাওলানা মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ আফফান মনসুরপুরী।

সফরকালে বারমের এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ, মাদরাসা ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য আইনি করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রতিনিধি দল স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে জানায়, এ সংকটময় সময়ে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ তাদের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান করবে।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা অভিযোগ করেন, ‘অপারেশন ক্লিন’ নামে পরিচালিত অভিযানের আওতায় ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে একতরফা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, যেসব মসজিদ ও দরগাহ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিদ্যমান ছিল এবং কখনো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়নি, সেগুলোকে হঠাৎ করে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তারা আরও দাবি করেন, এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী এবং আইনের শাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংগঠনটি সরকারের প্রতি ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে একতরফা অভিযান বন্ধ, সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত এবং সকল নাগরিকের সমান সুরক্ষা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে।

জমিয়তের নেতারা মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার এবং মসজিদগুলোকে জামাতের নামাজের মাধ্যমে সচল রাখার আহ্বান জানান।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ চলছে এবং শিগগিরই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের তথ্য অনুযায়ী, রাজস্থানের বিকানের, ফলোদি, জয়সালমির ও বারমের জেলায় এ পর্যন্ত একাধিক মসজিদ, দরগাহ ও ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। পাশাপাশি শতাধিক স্থাপনার বিরুদ্ধে নোটিশও জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে জয়সালমিরের রামগড়-তনোট বাইপাস সড়কে অবস্থিত প্রায় আড়াইশ বছর পুরোনো হজরত মাহমুদ শাহ জিলানির দরগাহও রয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, রাজস্থানের এই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির ঐতিহ্য বিদ্যমান। শতাব্দীপ্রাচীন মসজিদ, দরগাহ ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনা স্থানীয় ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এসব স্থাপনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইন, ইতিহাস ও সামাজিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

জেডএম/