
|
‘মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, এটি সমাজ গঠনেরও কেন্দ্র’
প্রকাশ:
২০ জুন, ২০২৬, ০৫:১৫ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক নৈতিক, শান্তিপূর্ণ ও আদর্শ সমাজ গঠনে মসজিদের ভূমিকা এবং আলেম সমাজের করণীয় নিয়ে কিশোরগঞ্জে ‘মসজিদভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) জেলা শহরের আল্লামা আতহার আলী (রহ.) কনভেনশন হলের ষষ্ঠ তলায় ‘তরুণ আলেম প্রজন্ম কিশোরগঞ্জ’-এর উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে শুরু হয়ে জোহরের নামাজ পর্যন্ত আলোচনা সভা চলে। মাওলানা আকরাম খন্দকার ও মাওলানা নাজিম উদ্দীনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন মাওলানা আব্দুল্লাহ সাদেক। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল মিঞা। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মসজিদ কেবল ইবাদতের স্থান নয়; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক প্রতিষ্ঠান। ইসলামের স্বর্ণযুগে মসজিদ ছিল শিক্ষা, বিচার, পরামর্শ, নেতৃত্ব ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। বর্তমান সময়েও মসজিদকে সমাজ উন্নয়ন, নৈতিকতা চর্চা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, সমাজে মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ, পারিবারিক বন্ধনের অবক্ষয় এবং নৈতিক সংকট উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বরং মসজিদভিত্তিক সামাজিক সচেতনতা, ধর্মীয় শিক্ষা এবং আলেম সমাজের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। তরুণ আলেমদের উদ্দেশ্যে বক্তারা আরও বলেন, দাওয়াতি কার্যক্রম, শিক্ষা সহায়তা, সামাজিক সেবা ও নৈতিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে মসজিদকেন্দ্রিক সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান তারা। অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন সায়্যিদ সিরাজুল হুদা, মাওলানা সাইফ সিরাজ, মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ, মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল কাইয়ূম, মুফতি আব্দুল মাজিদ, মাওলানা ইলিয়াস কাসেমী, মাওলানা মুত্তাকি, মাওলানা জুয়েল, মাওলানা শফিক এবং মাওলানা শফিকুল রহমান জালালাবদী। আলোচনা সভায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত তরুণ আলেম, খতিব, ইমাম ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত বক্তা ও অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। আইও |