
|
উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি হালাল খাবার ও ধর্মীয় অনুশাসনসম্মত পরিবেশে গুরুত্বারোপ
প্রকাশ:
১০ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৩৮ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
ফিয়াদ নওশাদ ইয়ামিন বাংলাদেশি মেরিনারদের উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা, মেরিটাইম খাতে দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা ও পেশাগত সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে (সিইউবি)। সোমবার (১০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশি মেরিনারদের উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মেরিটাইম ও পরিবহন খাতের শিক্ষক, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইম সায়েন্স বিভাগের আয়োজনে এবং মালয়েশিয়ার তেরেংগানু বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বেলা সাড়ে ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি মেরিনারদের কর্মঅভিজ্ঞতার সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও বিশেষায়িত জ্ঞান যুক্ত করে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম খাতে তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফত। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এইচ. এম. জহিরুল হক। সেমিনারে মালয়েশিয়ার তেরেংগানু বিশ্ববিদ্যালয়ের মালয়েশীয় সরবরাহ ও পরিবহন কেন্দ্রের পরিচালক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইজওয়ান বিন সাদোন মেরিটাইম ও পরিবহন খাতে উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি মেরিনারদের পেশাগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে একাডেমিক জ্ঞান ও দক্ষতার সমন্বয় করা গেলে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম খাতে তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচি উন্নয়ন ইউনিটের প্রধান ড. নিক মুহাম্মদ আফিজ বিন হারোম জুনোহ মেরিটাইম ও পরিবহন শিক্ষার বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ দক্ষতার চাহিদা নিয়ে আলোচনা করেন। মেরিটাইম শিক্ষাকে শুধু জাহাজ পরিচালনায় সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতের সঙ্গে সমন্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেমিনারের মূল বক্তা মালয়েশিয়ার চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব লজিস্টিকস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জালি শাহ বিন মুহাম্মদ হুসেইন মেরিটাইম ও পরিবহন খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম খাতের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মেরিনারদের ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সেমিনারে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়া মুসলিম শিক্ষার্থী ও মেরিটাইম পেশাজীবীদের জন্য হালাল খাবার এবং ধর্মীয় অনুশাসন পালনের উপযোগী পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। আলোচনায় বলা হয়, বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একাডেমিক সুযোগের পাশাপাশি মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবার, আবাসন এবং ধর্মীয় অনুশাসন পালনের সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মুসলিম শিক্ষার্থীদের অনেকের জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে খাবার ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ থাকে। মালয়েশিয়ার হালাল ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা মুসলিম শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য কীভাবে কার্যকর হতে পারে, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়। হালাল ব্যবস্থাকে শুধু খাদ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সংশ্লিষ্ট সেবা ও সামগ্রিক পরিবেশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে দেখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে মুসলিম শিক্ষার্থীদের একাডেমিক চাহিদার পাশাপাশি তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রয়োজনও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইম সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ক্যাপ্টেন মো. নাসির উদ্দিন। আলোচনায় তিনি বাংলাদেশি মেরিনারদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম খাতে দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সেমিনারে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একাডেমিক যোগাযোগ, মেরিটাইম শিক্ষা ও গবেষণায় অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাংলাদেশি মেরিনারদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচকরা বলেন, কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ যুক্ত করা গেলে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম খাতে বাংলাদেশি মেরিনারদের ভূমিকা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে। আইও/ |