
|
সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার তাগিদ সেনাপ্রধানের
প্রকাশ:
১৮ জুন, ২০২৬, ০৬:২৩ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
সামরিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, একজন সেনা সদস্যের চরিত্র গঠন, নৈতিকতা ও পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনে ধর্মীয় শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ)-এর ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেনাপ্রধান বলেন, মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি দক্ষ, আধুনিক এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর বিকল্প নেই। সেই বাহিনীর নেতৃত্বের মূল দায়িত্ব অফিসারদের ওপর ন্যস্ত। তাই নতুন প্রজন্মের সেনা কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুশাসনের চর্চা একজন সেনা সদস্যকে আদর্শবান, মর্যাদাবান এবং উন্নত চরিত্রের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। প্রশিক্ষণ শেষে নতুন জীবনে পদার্পণকারী কর্মকর্তাদের সামনে দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, দক্ষ, চৌকস ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন সেনা কর্মকর্তা তৈরিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ প্রতিষ্ঠানের সুনাম রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএমএ থেকে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আনুগত্য, শৃঙ্খলা, ন্যায়পরায়ণতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার ঐতিহ্য ধরে রেখে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বপরিসরেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ‘চির উন্নত মম শির’ মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনী গঠনে বিএমএর অবদান অত্যন্ত গৌরবের। সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাদের কাঁধে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হলো। এই দায়িত্ব পালনে সততা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স থেকে ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তাদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া ফিলিস্তিন, তানজানিয়া, জাম্বিয়া ও মালদ্বীপের মোট সাতজন বিদেশি ক্যাডেটও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, যারা নিজ নিজ দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ গ্রহণ করেন। পরে তাদের মা-বাবা ও অভিভাবকরা আনুষ্ঠানিকভাবে র্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি, অভিভাবক এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জেডএম/ |