প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাদপন্থীদের ইজতেমা বন্ধের দাবি হেফাজতের
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:৩২ রাত
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

টঙ্গীর ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে মোট নয় দফা দাবি তুলে ধরে হেফাজতে ইসলাম।

হেফাজতের নয় দফা দাবির মধ্যে নবম দাবিতে বলা হয়, বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

তাবলিগ জামাতের নেতৃত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এক পক্ষ মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত, অন্য পক্ষ শূরাপন্থী হিসেবে পরিচিত। আলেমদের প্রায় সবাই শূরার পক্ষে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সাদপন্থীরা শেষবারের মতো টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা করার অনুমতি পেয়েছিল। সেই প্রজ্ঞাপনে তাদের স্বাক্ষরও রয়েছে। তারা আর টঙ্গীর মাঠে ইজতেমা করবে না বললেও পরবর্তী সময়ে সেই কথা থেকে ফিরে আসে।

সাদপন্থীদের ইজতেমা বন্ধের দাবির পাশাপাশি হেফাজতে ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরও আটটি দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.), পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন এবং কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করার দাবি।

এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ উন্মুক্ত করা এবং সরকারি নিয়োগে এ সনদকে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা ও হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা, পার্বত্য চট্টগ্রামে মিশনারিদের অপতৎপরতা বন্ধ এবং আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আলেম-ওলামাকে অংশীদার করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আইও/