দেশ এগিয়ে নিতে হেফাজতে ইসলামকে পাশে চান প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:২৪ রাত
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

হেফাজতে ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও দেশের স্বার্থে সরকারের পাশে থাকার জন্য হেফাজতে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনেও আমরা একসঙ্গে থাকব। হেফাজতে ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। ফটিকছড়ির বাবুনগরে হেফাজত আমিরের দোয়া নিতে এসেছি।’

বিগত নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, হেফাজতে ইসলাম অতীতে বিএনপির পাশে থেকে কাজ করেছে। ফ্যাসিবাদ ও বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় তাদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতেও একইভাবে পাশে থাকার জন্য হেফাজতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আপনারা একসঙ্গে থেকে কাজ করেছেন। ফলে বিপদ থেকে আমরা দেশকে মুক্ত করেছি। তবে সমস্যা শেষ হয়নি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়ে দেশে বিপুল অর্থ লুট হয়েছে। নির্বাচনের পরও দেশের সামনে নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারকে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

ফটিকছড়ির বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ এলাকায় হাসপাতাল ও শিক্ষার সমস্যা রয়েছে। স্কুল-কলেজ, কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটও রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করবে বলে জানান তিনি।

গ্যাস সংকটের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দেশের নিজস্ব গ্যাসের মজুত অনুসন্ধানে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি দেশের গ্যাস বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

এর আগে বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং এলাকায় অবতরণ করে। পরে প্রায় আট কিলোমিটার সড়কপথ পাড়ি দিয়ে তিনি বাবুনগর মাদরাসায় পৌঁছান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মাদরাসা প্রাঙ্গণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সময় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নয় দফা দাবিও তুলে ধরা হয়। এসব দাবির মধ্যে ইসলাম ও পবিত্র কুরআনের অবমাননা রোধে আইন প্রণয়ন, কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন না করা, বিভিন্ন আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার, কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি কার্যকর এবং শিক্ষাব্যবস্থায় বিভিন্ন পরিবর্তনের দাবি রয়েছে।

এ ছাড়া টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ও তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা, ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজত আমিরের এই সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ও আলেম-ওলামার মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।