
|
মুফতি ইয়াসির নাদিম ওয়াজেদির বিরুদ্ধে ভারতে মামলা
প্রকাশ:
০৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:১৯ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের বিশেষজ্ঞ মুফতি ড. ইয়াসির নাদিম ওয়াজেদির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর শনিবার (৮ আগস্ট) ভারতের ম্যাঙ্গালুরু পুলিশ এ মামলা দায়ের করে। পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর ভিত্তিতে অভিযোগটি করা হয়। অভিযোগকারী হরধর চৌধুরীর দাবি, একটি অনলাইন কোর্সে মুফতি ইয়াসির নাদিম ওয়াজেদিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—আল্লাহর কাছে মূর্তিপূজা বড় অপরাধ, নাকি কোনো মেয়ের সঙ্গে অসদাচরণ বা যৌন নির্যাতন? অভিযোগকারীর দাবি, ওই প্রশ্নের জবাবে মুফতি ওয়াজেদি এমন মন্তব্য করেন, যা তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ম্যাঙ্গালুরু পুলিশ সংশ্লিষ্ট আইনের বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের করে। থানার ইনচার্জ লোকেন্দ্র সিং মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রচারিত ভিডিওসহ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব উপকরণ যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে মুফতি ইয়াসির নাদিম ওয়াজেদির বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট সামনে রাখলে ভাইরাল হওয়া সংক্ষিপ্ত ভিডিওটির ব্যাখ্যা ভিন্ন হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। তার বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইসলামি আকিদা অনুযায়ী শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধকে ইসলাম ছোট করে দেখে। বরং ইসলামে এ ধরনের অপরাধকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তিনি বিষয়টি বোঝাতে অপরাধের তুলনামূলক উদাহরণ দেন। তার বক্তব্যের সারকথা ছিল—একটি রাষ্ট্রে চুরি বা অন্যান্য অপরাধ গুরুতর অপরাধ হলেও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকে তার চেয়েও বড় অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। একইভাবে ইসলামী বিশ্বাসের দৃষ্টিতে শিরককে সবচেয়ে গুরুতর গুনাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়; কিন্তু এর মাধ্যমে সামাজিক ও নৈতিক অপরাধের ভয়াবহতা কোনোভাবেই অস্বীকার করা হয় না। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সংক্ষিপ্ত অংশের সঙ্গে মুফতি ওয়াজেদির পূর্ণ বক্তব্যের পার্থক্য রয়েছে বলে তার বক্তব্যের সমর্থকেরা দাবি করছেন। তাদের মতে, পুরো আলোচনা না দেখে কেবল একটি অংশের ভিত্তিতে মন্তব্যের অর্থ নির্ধারণ করলে বক্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট অস্পষ্ট থেকে যেতে পারে। মুফতি ড. ইয়াসির নাদিম ওয়াজেদি নিয়মিতভাবে ইউটিউবে সরাসরি শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এসব আলোচনায় ইসলাম নিয়ে উত্থাপিত বিভিন্ন আপত্তি ও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব, সমকালীন চিন্তাধারা, দর্শন ও বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে তার বিশেষ আগ্রহ ও গবেষণার কারণে এসব অনলাইন আলোচনা আন্তর্জাতিকভাবে ইসলামি শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় আগ্রহী দর্শকদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। মুফতি ড. ইয়াসির নাদিম ওয়াজেদি ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন ইসলামি আলেম, গবেষক ও বক্তা। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে বসবাস করছেন। ইসলামি শিক্ষা, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব, আকিদা এবং সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশ্ন নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি একটি ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিম শিক্ষার্থী ও দর্শকদের জন্য তিনি অনলাইন কোর্স, আলোচনা ও বক্তৃতা পরিচালনা করে থাকেন। সূত্র: মিল্লাত টাইমস উর্দু আরএইচ/ |