
|
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান ও মাদরাসাপড়ুয়াদের অবিস্মরণীয় ভূমিকা
প্রকাশ:
০৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০৩ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
৫ আগস্ট বা ৩৬ জুলাই ২০২৪ তারিখে একটি দানব শক্তিকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে এদেশের ছাত্র-জনতা। মানবরূপী এই দানব শাসককে ক্ষমতার মসনদ থেকে সরাতে পারেÑ এমন শক্তি আপাত চোখে পড়ছিল না। রাজনৈতিক শক্তিগুলো সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল। অবৈধভাবে ক্ষমতা ধরে রাখা রেজিম নতুন উদ্যমে, নতুন শক্তিতে মসনদ পাকাপোক্ত করছিল। চব্বিশের শুরুতে শেষ বার যখন তারা একটি ভুয়া ও আজগুবি ভোটের মাধ্যমে আরও পাঁচ বছর ক্ষমতার মসনদে থাকার বন্দোবস্ত করে নেয়Ñ তখন অনেকের মধ্যে হতাশা প্রকট আকার ধারণ করে। কেউ কেউ বলছিলেন, শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে আছেন ততদিন বোধহয় আর তাকে বা তার দলকে কেউ ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না। জীবদ্দশায় হাসিনার পতন দেখে যেতে পারবেন কি না সেই আক্ষেপও অনেককে করতে দেখেছি। মাত্র ছয়-সাত মাসের মাথায় তাদের শোচনীয় ও ভয়াবহ পতন হবেÑ এটা অন্তত এদেশের কোনো মানুষই কল্পনা করেনি। এজন্য জুলাই বিপ্লবটা আমাদের কাছে অনেক দিন পর্যন্ত ঘোর লাগার মতো মনে হয়েছে। সবকিছু অকল্পনীয় ও অবিশ্বাস্য ঠেকেছে। গোটা দুনিয়া তোলপাড় করা এই বিপ্লব একক কোনো শক্তির, সংগঠনের কিংবা গোষ্ঠীর অবদানে যে হয়নি সেটা সর্বজন স্বীকৃত। গোটা জাতির সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সর্বাত্মক সহযোগিতা না থাকলে এই আন্দোলন কখনো সাফল্যের মুখ দেখতো না। যারা ব্যক্তি-বিশেষ কিংবা দল বা প্রতিষ্ঠানকে সব কৃতিত্ব দিতে চান, তারা নিঃসন্দেহে অবিচার করেন। একক কাউকে ক্রেডিট দিলে এই আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, যারা রক্ত ঝরিয়েছেন, যারা এখনো পঙ্গুত্ব নিয়ে দিনাতিপাত করছেনÑ তাদের সঙ্গে অবিচার করা হবে। তবে এই আন্দোলনে মোটাদাগে এবং প্রধানত ভূমিকাটা যে শিক্ষার্থীদের ছিলÑ সেটা নিয়ে হয়ত কারও দ্বিমত থাকার কথা না। পেছন থেকে অনেকের সহযোগিতা ও সমর্থন ছিল; কিন্তু সম্মুখ সমরে মূল ভূমিকাটি রেখেছে আবু সাঈদ-মুগ্ধদের মতো রক্ত টগবগ করা তারুণ্য, যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। এদেশের স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক অনেক আন্দোলনে মাদরাসাপড়ুয়াদের আলাদাভাবে উল্লেখ করার মতো ভূমিকা ছিল না। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কিংবা নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মাদরাসা শিক্ষার্থী কিংবা আলেম-উলামা বড় কোনো ভূমিকা রেখেছেন বলে জোর গলায় বলা যায় না। এটা নিয়ে অবশ্য তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নানা আলোচনা ও আক্ষেপ আছে। তবে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে মাদরাসাপড়ুয়ারা তাদের অতীতের সব দায় শোধ করেছেন। অতীতের যেকোনো আন্দোলনের তুলনায় সেই আন্দোলনে মাদরাসাপড়ুয়াদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তালিকা প্রকাশ হওয়া প্রায় দেড় হাজার শহীদের মধ্যে শয়ের কাছাকাছি মাদরাসাপড়ুয়া। আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এমন সংখ্যাও সহস্রাধিক। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র থেকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত মাদরাসা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের আসনে দেখা গেছে। আন্দোলন চলাকালে এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মাদরাসাপড়ুয়ারা বিপ্লবের পক্ষে তাদের সরব উপস্থিতি জানান দিতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে বিপ্লবপরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রাফিকব্যবস্থা সচল এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিল উল্লেখ করার মতো। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের লাগাতার কয়েক দিন মন্দির পাহারা দেওয়ার বিষয়টি দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত এবং প্রশংসিত হয়েছে। জুলাই বিপ্লবে মাদরাসাপড়ুয়াদের অবিস্মরণীয় অংশগ্রহণের কারণও রয়েছে। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখনকার মাদরাসাপড়ুয়ারা সচেতন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে সময়ের ভাষা ও আহ্বানটা তারা ভালোমতো উপলব্ধি করতে পারেন। আলেমদের নতুন প্রজন্ম আগের যেকোনো প্রজন্মের চেয়ে বেশি সময় সচেতন। যেকোনো সংকটে নিজের করণীয় সম্পর্কে তারা ভাবেন, বিতর্ক করেন, সমাধানের পথ খোঁজেন। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে জুলাইয়ের শুরুতে যে আন্দোলন গড়ে উঠে সেটার সঙ্গে মূলত মাদরাসাপড়ুয়াদের সরাসরি কোনো সংযোগ ছিল না। কেননা শুরুতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রায় সবাই সরকারি চাকরিপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু মাদরাসাপড়ুয়াদের, বিশেষ করে কওমি শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ ছিল না। কেননা তাদের সনদের কথিত স্বীকৃতি মিললেও সরকারি চাকরিতে আবেদন করার মতো যোগ্য বলে তারা বিবেচিত হন না। কোটাবিরোধী আন্দোলনে মাদরাসাপড়ুয়াদের সরাসরি কোনো ইন্টারেস্ট জড়িত না থাকলেও এটা যে যৌক্তিক একটি আন্দোলন, সেটা তারা অনুধাবন করতে পারেন শুরুতেই। সরকারি চাকরিতে বৈষম্য হচ্ছেÑ এটা অনুধাবন করে প্রথম দিকেই মাদরাসাপড়ুয়ারা এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। যখন আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ ছিল তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন মাদরাসাপড়ুয়ারা। রংপুরে যখন আবু সাঈদকে প্রকাশ্যে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়Ñ এরপর থেকে মাদরাসাপড়ুয়ারাও রাজপথের আন্দোলনে সরব হয়ে ওঠেন। সারাদেশে তারা মিছিল, বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন। এটা শুধু এক-দুটি মাদরাসায় নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে একযোগে সবাই বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। জুলাইয়ের মধ্যভাগে যখন সরকারি দমন-পীড়নের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা অনেকটা দমে যান, তখন নজিরবিহীনভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। সেই সময় দেশজুড়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে জোরালোভাবে ছিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। এমনকি তখন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জুলাইয়ের শেষ দিকে দ্বিতীয় দফায় যখন আন্দোলন নতুন করে তীব্র রূপ নেয়; তখন অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মাদরাসাপড়ুয়ারাও ব্যাপকভাবে অংশ নেন। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বড় বড় শহরগুলোতে তাদের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। মাদরাসা শিক্ষার্থীরা যে শুধু রাজপথের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তাই নয়, আন্দোলনে সর্বাত্মক সহযোগিতায় তারা কাজ করেছেন। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, তাদের জন্য রক্ত সংগ্রহ, আর্থিক সংস্থান, শহীদদের লাশ দাফন-কাফন সব কাজেই তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। রাজধানীর নতুন বাজার, বাড্ডা, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় আমরা দেখেছি, মাদরাসাপড়ুয়া ছোট ছোট শিশুরা আন্দোলনকারীদের শরবত ও পানি খাওয়াচ্ছে। এমন দৃশ্য দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও চোখে পড়েছে। জুলাই আন্দোলনের একটি বড় স্পট ছিল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী। অন্য অনেক এলাকায় প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলেও যাত্রাবাড়ীর নিয়ন্ত্রণ অনেক দিন পর্যন্ত নিতে পারেনি। অথচ এই অঞ্চলে উল্লেখ করার মতো পাবলিক বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নেই। এর একটা বড় কারণ হলোÑ এই এলাকায় সবচেয়ে বেশি মাদরাসা। এই আন্দোলনে কওমি ও আলিয়া উভয় ধারার মাদরাসার ভূমিকা রয়েছে। তবে যাত্রাবাড়ী অঞ্চলে বেশির ভাগ মাদরাসাই কওমি। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে নিয়ে চিটাগাং রোড পর্যন্ত এলাকায় হাজারের বেশি মাদরাসা রয়েছে। এসব মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এই অঞ্চলে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে একটা বিষয় স্বীকার করতেই হবে, যাত্রাবাড়ী অঞ্চলের আন্দোলন এতো তীব্র আকার ধারণ করার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে টোকাই ও শ্রমিক শ্রেণি। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন সফলের জন্য কাজ করেছে। তরুণ আলেমদের সংগঠন সাধারণ আলেম সমাজ চব্বিশের আন্দোলনে হতাহতদের ওপর একটি জরিপ চালিয়েছে। তাদের জরিপে জুলাই বিপ্লবে নিহতদের মধ্যে ৮০ জন মাদরাসাপড়ুয়া বলে উঠে এসেছে। বেসরকারি সেবা সংস্থা সেন্টার ফর সোস্যাল স্টাডিজ ফাউন্ডেশন শহীদদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে সেখানে মাদরাসাপড়ুয়া ৫০ জনের নাম-পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, জুলাই বিপ্লবে কওমি মাদরাসাপড়ুয়া ২৯ জন এবং আলিয়া মাদরাসায় পড়ুয়া ২১ জন শহীদের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের যে তালিকা করছে, তাতে মাদরাসাপড়ুয়াদের কথাও উঠে আসছে। যদিও সব জরিপই অসম্পূর্ণ। প্রকৃত সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। এছাড়া আন্দোলনে আহত এবং পঙ্গুত্ব বরণকারী প্রায় ৩০ হাজারের মধ্যে সহস্রাধিক মাদরাসাপড়ুয়াও রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাদরাসাপড়ুয়া কিংবা আলেমদের ব্যাপক উপস্থিতির বেশ কিছু কারণও রয়েছে। এর মধ্যে বড় কারণ হলো, ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দ্বারা আলেম-উলামা ব্যাপকভাবে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। বারবার তাদের কণ্ঠ চেপে ধরা হয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরের গণহত্যার ক্ষত এখনো লাখ লাখ আলেম-উলামার মনে দগদগে হয়ে আছে। ২০২১ সালে নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর ঘিরে হেফাজত নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের যে স্টিমরোলার চালানো হয়েছিল, সেই রাগ ও কষ্ট এখনো লাখ লাখ মাদরাসাপড়ুয়ার মনে তাজা। গত দেড় দশক ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ যেভাবে এদেশের আলেম-উলামা ও দীনদার মানুষকে অপমান-অপদস্থ করেছে সেটা কারও এতো তাড়াতাড়ি ভোলার কথা নয়। সবচেয়ে বড় হলো, স্বাধীনতাবিরোধী ও রাজাকারের যে ট্যাগ, শেখ হাসিনা সেটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োগ করেছেন আলেম-উলামার ওপর। স্বাধীনতার অনেক পরে যাদের জন্ম, শুধু ধর্মকর্ম করা এবং টুপি-দাড়ির কারণে তাদের নির্বিচারে ‘রাজাকার’ কিংবা ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ বলে গালি দেওয়া হয়েছে। এসব অপমানÑঅপদস্থতার ক্ষোভ এদেশের লাখ লাখ আলেম-উলামা ও মাদরাসাপড়ুয়াদের অন্তরে সজীব ছিল। ভয়াবহ দানবরূপী ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন সময় জ্বলে ওঠার চেষ্টা করেও কূলিয়ে উঠতে পারেনি। তবে এবার ছাত্র-জনতার আন্দোলন তীব্র হতে থাকায় সেই সুযোগটি তারা ভালোমতোই কাজে লাগায়। বহুদিনের ক্ষোভ ও কষ্টের রেশ, বহু মানুষের বঞ্চনা ও বৈষম্যের খেদ একত্রিত হওয়ার ফলেই মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থান অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে তাদের সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার কারণে মুক্তি মিলেছে জাতির। এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কেউ প্রাপ্তির কথা ভাবেনি, পরিণতি কী হবে সেটা নিয়ে টেনশন করেনি; রাজপথে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ নিজ অবস্থান থেকে। সবার সম্মিলিত চেষ্টা, সাধনা ও পরিকল্পনায় একটি সফল বিপ্লবের দেখা পেয়েছে জাতি। এবার সবার উচিত সেই বিপ্লবের স্পৃহা ধরে রাখা। যে প্রত্যাশা নিয়ে এতো মানুষ প্রাণ দিলো, রক্ত ঝরালো, পঙ্গুত্ব বরণ করলো সেই প্রত্যাশা পূরণ না হলে বিপ্লব ব্যর্থ হবে। কোনোভাবেই অভূতপূর্ব এই বিপ্লব ব্যর্থ হতে দেওয়া উচিত নয়। এবারের বিপ্লবের প্রধান সুরই ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। এজন্য অনেক বিসর্জনের মধ্য দিয়ে জাতির যে অর্জন সেটা ঘরে তুলতে হলে বৈষম্য সবার আগে দূর করতে হবে। আমাদের সমাজে যেসব শ্রেণি বৈষম্যের শিকার, এর অগ্রভাগে রয়েছে আলেম-উলামা ও মাদরাসাপড়ুয়ারা। জাতীয় ও সামাজিকভাবে তাদের প্রতি যে বৈষম্য ও অবিচার হয়েছে এতোকাল ধরে, সেটা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দূর করতে হবে। তবেই জুলাই বিপ্লবে মাদরাসাপড়ুয়াদের যে ত্যাগ সেটার মূল্যায়ন হবে। লেখক: প্রধান বার্তা সম্পাদক, ঢাকা মেইল; সম্পাদক, লেখকপত্র |