৮ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব জামায়াতের
প্রকাশ: ০৯ জুন, ২০২৬, ০৪:৪৪ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

বিগত সরকারের আমলে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প বা ‘ছায়া বাজেট’ প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জনমুখী বাজেট ২০২৬-২০২৭ প্রস্তাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে দলটির পক্ষে ছায়া বাজেট উপস্থাপন করেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা সাইফুল আলম খান মিলন।

প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ভাতা চালু, করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

জামায়াতের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বাজেটের মূল দর্শন হিসেবে দলটি সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক আধুনিক ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেছে।

উপস্থাপনায় সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উপায়ে দেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। পাচার হওয়া এই অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারলে বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কর ব্যবস্থার সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, পৃথক টিআইএন নম্বরের পরিবর্তে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বরকেই কর শনাক্তকরণ নম্বর হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ‘স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর’ চালুরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

করদাতাদের স্বস্তি দিতে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা বর্তমান সাড়ে ৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সন্তানের শিক্ষা ব্যয়ের জন্য বছরে ৫০ হাজার টাকা এবং পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য আরও ৫০ হাজার টাকা কর রেয়াতের সুপারিশ করা হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা বর্তমানে ৬৫০ থেকে ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার টাকা এবং পর্যায়ক্রমে ৩ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ধর্মীয় সেবার সঙ্গে সম্পৃক্তদের জন্যও বিশেষ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে দেশের সব মসজিদের ইমামদের মাসিক ৭ হাজার ৫০০ টাকা, মুয়াজ্জিনদের ৫ হাজার টাকা এবং খাদেমদের ৩ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নেরও প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। এতে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১০০ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ৮০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে গর্ভধারণের শুরু থেকে সন্তান জন্মের পর দুই বছর পর্যন্ত সকল মায়ের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে আলিয়া মাদ্রাসা সরকারিকরণের সুপারিশ করা হয়েছে।

সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, অতীতে শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের জীবনমানের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে সুশাসন, জবাবদিহিতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীলতাভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় জামায়াতে ইসলামী।

জেডএম/