
|
বেতন ছাড়ের দাবিতে আমরণ অনশনে ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা
প্রকাশ:
০৮ জুন, ২০২৬, ০৬:৪৯ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া শূন্য পদের শিক্ষকদের চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন অবিলম্বে ছাড়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশন করছেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা। সোমবার (৮ জুন) তাদের লাগাতার অবস্থান ধর্মঘটের ১৯তম দিন এবং আমরণ অনশনের দ্বিতীয় দিন চলমান। ‘অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ ১৯ দিন ধরে শিক্ষকরা রাজপথে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করলেও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ বা আশ্বস্ত করা হয়নি। এর আগে গত ২১ মে থেকে সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা শামসুল হক আনছারীর সভাপতিত্বে এ লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, যা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সমন্বয়ক মাওলানা শেখ নজরুল ইসলাম মাহবুব, মো. গোলাম আজম আব্দুর রহমান শাজাহান, আব্দুস সাত্তার, শিক্ষক পরিষদের মহাসচিব মো. শামছুলস আলম, এস এম নজরুল ইসলাম, মাও. আনিসুল হক, মাও. আব্দুস সাত্তার মাও. জুহুরূল আলম, আ. রহিম, নুরুন্নবী, জেলা উপজেলার দায়িত্বশীলসহ সংগঠনের নেতারা। আরও জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা নিতীমালা ২০২৫ এর আলোকে গত ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত বিধি মোতাবেক এমপিও আবেদন করেন। কিন্তু প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত একটি মাদরাসাও এমপিওভুক্ত করা হয়নি। শূন্য পদে নিয়োগ করা ও কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন ছাড়করণের চূড়ান্ত অনুমোদন শিক্ষা মন্ত্রণালয় কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাবিভাগ কর্তৃক থাকার পরেও প্রায় ১০ (দশ) মাস অতিবাহিত হতে চলছে কিন্তু এখন পর্যন্ত মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর একটি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন ছাড় করেননি। ফলে ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক কর্মরত থেকেও তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রসারের লক্ষ্যে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তর অনুমোদনের জন্য ১৯৭৮ অধ্যাদেশ ১৭(২) ধারা জারি করেন। সেই মোতাবেক ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকদের ৫০০ টাকা ভাতা দেয়। পরে ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে চারদলীয় ঐক্যজোট সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে সরকারিভাবে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ও উপবৃত্তি চালু করে। কিন্তু বিগত সরকার ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে ২৬ হাজার ১৯টি রেজিস্ট্রেশন করা প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে অথচ ১টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ কিংবা এমপিওভুক্ত করার কোন উদ্যোগ নেয়নি। বিগত সরকারের জাতীয়করণ কার্যক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হলেও দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষকদের নেই বেতন-ভাতা, নেই চাকরির নিরাপত্তা, নেই অন্যান্য আর্থিক সুবিধা। ফলে শিক্ষার মান উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে এবং মেধাবী শিক্ষকরা এ পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছেন। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তার বাস্তবায়ন হয়নি। ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায়, আমরা অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত, এমপিও আবেদন করে ২০২৫ এর নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার এমপিও দ্রুত বাস্তবায়ন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন করা শূন্য পদে নিয়োগ করা ও কর্মরত অনুদানবিহীন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ায়ি থেকে মে পর্যন্ত অনুদান অনতিবিলম্বে ছাড়করণের জোর দাবি জানানো হয়েছে। জেডএম/ |