
|
‘বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি ও অপচয়ের অধিকার জনগণ কাউকে দেয়নি’
প্রকাশ:
০৮ জুন, ২০২৬, ০২:৩৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, জনগণের করের টাকায় গঠিত বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি, টালবাহানা, অপচয় বা যাচ্ছেতাইভাবে অর্থ ব্যয়ের কোনো অধিকার কারও নেই। রোববার (৮ জুন) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির হলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের আগামী অর্থবছরের বাজেট: আমাদের ভাবনা ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, দেশে প্রায় কোটি মানুষ নিবন্ধিত করদাতা থাকলেও বাজেটের অর্থ আসে সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে। এমনকি একজন সাধারণ ফকিরও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর প্রদান করে। তাই জনগণের এই অর্থ অপচয় বা দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। পীর সাহেব চরমোনাই অভিযোগ করেন, প্রতি বছর বাজেট ঘোষণা ও সংসদে অনুমোদন করা হলেও এর বাস্তবায়নে নজরদারি, আমানতদারিতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের বড় একটি অংশ অপচয় ও দুর্নীতির মাধ্যমে বাইরে চলে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাজেট কেবল একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, বরং এটি জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। কিন্তু বাস্তবে জনগণ বাজেটের সুফল কতটা পাচ্ছে, তা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার কারণে ঘোষিত সুবিধাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই জনগণের কাছে পৌঁছায় না। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কেবল নেতৃত্ব নয়, নীতিগত পরিবর্তনও জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে শরীয়াহভিত্তিক ব্যবস্থাপনা একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, বাজেটে কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার জন্য উপবৃত্তি, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানানো প্রয়োজন। তিনি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সমালোচনা করে বলেন, এই জটিলতা দূর না হলে উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি আরও বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় শরিয়াহভিত্তিক ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ, ক্যাবের কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার এম এ এম গোলাম কিবরিয়া, ইসলামিক চেম্বার অব কমার্সের সদস্য সচিব মাওলানা মোফাজ্জল ইবনে মাহফুজ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসের, এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। আইও |