
|
কর্ণাটক মন্ত্রিসভায় ৫ মুসলিম মন্ত্রী রাখার দাবি, কংগ্রেসের ওপর বাড়ছে চাপ
প্রকাশ:
০৮ জুন, ২০২৬, ১১:৩৭ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
ভারতের কর্ণাটকে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনকে কেন্দ্র করে অন্তত পাঁচজন মুসলিম বিধায়ককে মন্ত্রী করার দাবি জোরালো হয়েছে। এ দাবিতে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা দাবি করছেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৮৭ শতাংশ মুসলিম ভোটার কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিলেন। তাই সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে, বিশেষ করে মন্ত্রিসভায়, সেই সমর্থনের যথাযথ প্রতিফলন থাকা উচিত বলে তারা মনে করেন। এটি নতুন কোনো দাবি নয়। দাভানাগেরে উপনির্বাচনের পর থেকেই মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশের সঙ্গে কংগ্রেস নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়। ওই নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থী মনোনয়নের দাবি জানানো হলেও দলীয় হাইকমান্ড প্রয়াত শামানুর শিবশঙ্করাপ্পার পরিবারের একজন সদস্যকে প্রার্থী করে। এরপর থেকেই মুসলিম নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরবর্তীতে দলীয় বিভিন্ন সিদ্ধান্তে মুসলিম নেতাদের স্বার্থ ও মর্যাদার প্রশ্ন তুলে একাধিকবার চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়। এমনকি দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মুসলিম নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার বিরোধিতা করে। সর্বশেষ শুক্রবার শুরু হওয়া বিক্ষোভে নতুন মন্ত্রিসভায় পাঁচটি মন্ত্রী পদ মুসলিম বিধায়কদের জন্য বরাদ্দের দাবি জানানো হয়। দাবির মধ্যে কংগ্রেস নেতা বি. জেড. জামির আহমেদের জন্যও একটি মন্ত্রী পদ নিশ্চিত করার আহ্বান রয়েছে। এদিকে শতবর্ষী সংগঠন হুবলি অঞ্জুমান-ই-ইসলামের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী এ এম হিন্দাসগেরি বলেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এস. এম. কৃষ্ণের আমলে পাঁচ থেকে ছয়জন মুসলিম মন্ত্রী ছিলেন। জনসংখ্যার অনুপাতে মুসলিমদের আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব পাওয়া উচিত হলেও বর্তমানে অন্তত পাঁচজন মুসলিম বিধায়ককে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। হুবলি-ধারওয়াড় মহানগর কংগ্রেসের সভাপতি আলতাফ হল্লুর বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুভূতি ও দাবিগুলো দলীয় সভাপতি এবং রাজ্যের শীর্ষ নেতাদের কাছে তুলে ধরা হবে। অন্যদিকে দক্ষিণ কানাড়ায় মন্ত্রী পদ বণ্টন নিয়ে অসন্তোষের খবরের বিষয়ে কর্ণাটক বিধানসভার স্পিকার ও কংগ্রেস নেতা ইউ. টি. খাদের বলেন, কংগ্রেস তার সব নেতাকেই মূল্যায়ন করে। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ বা নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলীয় হাইকমান্ড। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন জাতিগত ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে মন্ত্রিসভা গঠন করতে গিয়ে কংগ্রেস এখন বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের এই নতুন দাবি সেই চাপকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া জেডএম/ |