
|
৬ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে শঙ্কা
প্রকাশ:
০৭ জুন, ২০২৬, ০৯:৩৯ রাত
নিউজ ডেস্ক |
মাওলানা মামুনুল হক বিগত ২৭ মে'২৬ বুধবার সকালে রাজধানী ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক ওয়ার্ডে একসঙ্গে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। নবজাতকরা ছিল পোস্ট-অপারেটিভ/ডেলিভারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে সারা দেশের মানুষ শোকাহত হয়ে পড়ে। প্রসূতি মা ও সংশ্লিষ্ট পরিবার-পরিজনের হৃদয়বিদারক কান্না প্রতিটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। পবিত্র হজের সফরে থেকে হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় আমরাও শোকে মুহ্যমান হই । সন্তানের বাবা হিসেবে আমিও সন্তান হারানোর বেদনা আঁচ করতে পারি। সন্তানহারা পিতা-মাতা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি রয়েছে আমাদের দোয়া ও গভীর সমবেদনা। এই জাতীয় মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ঘটে যাওয়া রহস্যজনক এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত ও অনুসন্ধান হওয়া অপরিহার্য বলে মনে করি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজস্বভাবে এবং সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পৃথক পৃথক অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনপূর্বক জাতির সামনে তা উপস্থাপন করবে বলে আশা রাখি। তবে সেই সাথে এটাও জরুরি মনে করি, কারো ঘর পোড়ার মধ্য দিয়ে অন্য কেউ যেন আলু পোড়ানোর সুযোগ সন্ধানী ষড়যন্ত্র চালাতে না পারে। বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিকেল শিক্ষায় আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষের অবদান অনস্বীকার্য। চিকিৎসা সেবায় দশকের পর দশকজুড়ে তাদের অবদান ভুলে গেলে চলবে না। অনেকটা সরকারি হাসপাতালের আদলে স্বল্প খরচে গরিব ও অস্বচ্ছল মানুষের সেবা প্রদানে আদ-দ্বীন হাসপাতালের ভূমিকা দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার। ২০২৬ সালেও ঢাকা শহরে মাত্র সাড়ে তিনশ টাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিচ্ছে হাসপাতালটি। বিশেষভাবে গর্ভবতী মা ও ডেলিভারি চিকিৎসায় আদ-দ্বীনের সেবা এক কথায় অভূতপূর্ব । ডেলিভারিসহ প্রসূতি মায়ের চিকিৎসায় ডাক্তার নার্সসহ নারীদের মাধ্যমে সকল সেবা প্রদান আদ-দ্বীন হাসপাতালের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সিজার বিহীন সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া আদ-দ্বীন হাসপাতালের সফলতার অন্যতম মাইল ফলক। দুর্ঘটনারোধে সতর্কতামূলক যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য। দুর্ঘটনায় প্রমাণিত দোষী ও দায়ী ব্যক্তিদের অবশ্যই জবাবদিহিতা ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তবে সেটি যেন অবশ্যই নিরপেক্ষ ও জাতীয় স্বার্থে হয়। মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা সমাধান নয়। আমরা আশঙ্কা করছি, স্বল্প ও অনেক ক্ষেত্রে নামমাত্র খরচে ব্যাপক চিকিৎসা সেবা প্রদান করায় অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী ও মুনাফাখোর প্রতিযোগীর চক্ষুশূলে পরিণত আছে আদ-দ্বীন হাসপাতালটি। সেই সাথে ইসলামী পরিবেশে নারী রোগীগণ সহজে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ায় আদ-দ্বীন হাসপাতাল ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রিয় ও আস্থার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সেটাও ধর্মবিদ্বেষীদের গাত্রদাহের কারণ হতে পারে। এই সকল বিষয় তদন্ত ও অনুসন্ধানে সামনে রাখা উচিত বলে মনে করি। নানা কারণে ঘটনাটি সাবোটাজ বলেও আশঙ্কা হয়। স্বার্থান্বেষী কোন গোষ্ঠী যেন নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে কিংবা ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় পরিবেশে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ বন্ধের পাঁয়তারা না চালায়। আপাতত এতটুকুই বলে রাখলাম। ইনশাআল্লাহ আগামীকাল পবিত্র মক্কা মদিনার সফর শেষে দেশে ফিরব। প্রয়োজনে আমরাও অনুসন্ধান চালাবো ইনশাআল্লাহ। লেখক: আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আরএইচ/ |