ফিলিস্তিনে মসজিদ জ্বালিয়ে দিল অবৈধ ইহুদি বসতকারীরা
প্রকাশ: ২৭ জুলাই, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিমতীরের নাবলুস শহরের কাছে কুসরা এলাকায় রোববার (২৬ জুলাই) ভোরে একটি মসজিদ আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে অবৈধ ইহুদি বসতকারীরা।

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এরপর তারা নাবলুসের একটি মসজিদের দেয়ালে গ্রাফিতিতে লেখে "বেনায়াহুর প্রতিশোধ নাও"। খবর রয়টার্সের।

পরে উগ্রবাদী ওই ইহুদিরা মসজিদটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। গ্রাফিতিতে লেখা বেনায়াহু হলো ৩২ বছর বয়সী ইসরায়েলি রিজার্ভ সৈনিক বেনায়াহু মেল্লেত। তিনি ফিলিস্তিনি গ্রাম তালের কাছে এক বন্দুক হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান।

নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ফিলিস্তিনি গ্রাম তাল-এর কাছে গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) সশস্ত্র উগ্রপন্থি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি দল ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায়।

এ সময় তাদের মধ্যে গোলাগুলিতে চারজন ফিলিস্তিনি এবং দুজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন নিকটবর্তী একটি ইসরায়েলি বসতির নিরাপত্তা সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন।

ফিলিস্তিনের গ্রামবাসীরা বসতি স্থাপনকারীদের মোকাবেলা করার জন্য তাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে এবং তাদের প্রতিহত করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ফিলিস্তিনি এক বসতি স্থাপনকারীর অস্ত্র ছিনিয়ে নিচ্ছেন।

ফিলিস্তিনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, বসতি স্থাপনকারীরাই এই সহিংসতায় উস্কানি দিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, উভয় পক্ষ থেকেই গুলি চালানো হয়েছে।

জাতিসংঘ এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং শত শত আহত হয়েছেন। এসব সংঘর্ষের মধ্যে এটি ছিল সর্বশেষ ঘটনা।

আগামী অক্টোবরে নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছেন ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। নির্বাচনে তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে পশ্চিমতীরে নিরাপত্তা ইউনিটগুলোকে শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং তাদের ছুটি বাতিল করেছেন।

কট্টর-ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচসহ তার সরকারের সদস্যরা পশ্চিমতীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই অঞ্চলটি ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় দখল করেছিল।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার ভোরের দিকে পশ্চিমতীরের বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে ধারাবাহিক হামলা চালাতে থাকে।

নাবলুসের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কুসরা গ্রামের গ্রাম পরিষদের প্রধান আবদেল আজিম ওয়াদি বলেছেন, রোববার (২৬ জুলাই) ভোরে বসতি স্থাপনকারীরা তার গ্রামে সদ্য নির্মিত একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

পশ্চিম তীরের যে অংশে শুক্রবারের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, সেই অংশের দায়িত্বে থাকা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলেছে, এই ঘটনাটি ফিলিস্তিনিদের ওপর একটি ব্যাপক আক্রমণের অংশ।

ইসরায়েলি রাষ্ট্র-সমর্থিত বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসবাদ অধিকৃত পশ্চিমতীর জুড়ে পরিকল্পিত গণহত্যা চালানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একথা জানিয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি বড় ইসরায়েলি বসতির কাছে অবস্থিত কুসরায় পাঠানো সেনারা দেয়াললিখন ও অগ্নিসংযোগের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের সন্ধান করছে। তারা আরও জানিয়েছে, প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের পাঠানো হবে।

সামরিক বাহিনী বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনী ধর্মীয় স্থানের ক্ষতিসাধনসহ এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় এবং এই এলাকায় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরায়েলিদের দ্বারা সংঘটিত এ ধরনের সহিংসতা একটি জটিল পরিবেশে প্রতিরক্ষা ও সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কার্যক্রমের মূল দায়িত্ব থেকে প্রতিরক্ষা বাহিনীর মনোযোগ বিচ্যুত করে।