হলুদ মিডিয়ার অপপ্রচার মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি কোথায়?
প্রকাশ: ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

|| সাইমুম সাদী || 

মাথায় সাদা রুমাল কিংবা পাগড়ি পরে কেউ আবাসিক হোটেলে ফুর্তি করতে যায়? 

স্বয়ং শয়তানও এইকথা বিশ্বাস করবে না। কিন্তু মিডিয়া সেটাই নিউজ করেছে। সেভাবেই করেছে।

কিন্তু এই ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী ছিল? আমাদের কাজ নিয়েও তো আলোচনা দরকার। 

আমাদের একটা ফ্যাক্ট চেকার গ্রুপের দরকার ছিল।

আইনজীবীদের একটা টিম তৈরি করার প্রয়োজন ছিল।

সাংবাদিকদেরও একটা টিমের অ্যাক্টিভিটি প্রয়োজন ছিল।

ফ্যাক্ট চেকার যারা তারা প্রকৃত ঘটনা খুঁজে বের করবে৷ থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করবে। মূল ঘটনা জানবে৷ সাংবাদিকরা ঘটনা জনগণকে জানাবে৷ আর আইনজীবীরা  সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেইজের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে৷

দুই তিনটা জায়গায় এরকম উদ্যোগ নিলেই হলুদ মিডিয়া থেমে যাবে৷ যেসব পেইজ থেকে এসব ছড়াচ্ছে এরা মূলধারার মিডিয়া কিন্তু নয়৷ অজানা অচেনা পেইজ।

প্রশ্ন আসবে, কাজটা আপনারা করেন।

আমাদের আলাদা ফান্ড নেই। মিডিয়া ও আইনজীবী টিমের জন্য ফান্ড লাগে৷ প্রফেশনাল ফ্যাক্ট চেকারদের নিয়োগ করতে হলেও ফান্ড লাগে।  আলাদা উদ্যোগ লাগে।

বাতিলের মোকাবেলায় মহাসমাবেশ করে পনেরো বিশ লক্ষ টাকা আমরা ব্যয় করি, কিন্তু আলেম উলামাদের ইজ্জত রক্ষার জন্য এক লক্ষ টাকা ব্যয় করতে নারাজ।

যাদের টাকা আছে তারা এসব বোঝেন না। যারা বোঝেন তাদের টাকা নাই৷ আমাদের পরিচিত কিছু অনলাইন পত্রিকা আছে, এরা টাকার অভাবে মরতে মরতে বেঁচে আছে। কেউ কেউ বিলুপ্ত হয়ে বেঁচে গেছে।

আমাদের যারা ইউটিউব চ্যানেল চালায় তাদের অবস্থা একই৷ কী আর বলব ভাই।

এইসব সমস্যা আগামীতে বাড়বে। হলুদ মিডিয়ার টার্গেট মাদরাসা এবং আলেম উলামা। নিজেদের মধ্যে কেউ অপরাধী হলে কোনো দয়া মায়া দেখানো চলবে না। একইসাথে মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডার মোকাবিলাও করতে হবে।

পুরনো কথাটা আবারও বলছি। এই জামানায় আপনি দরবেশ নাকি শয়তান তা গুরুত্বপূর্ণ না। মিডিয়া আপনাকে কীভাবে তুলে ধরছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। 

ভাই বেরাদার, কথাটা একটু চিন্তা কইরেন।

লেখক: অ্যাকটিভিস্ট ও চিন্তক