
|
ড. আব্বাসীর টক শো: দর্শক হিসেবে আমার মূল্যায়ন
প্রকাশ:
০৫ জুন, ২০২৬, ০৮:৪২ রাত
নিউজ ডেস্ক |
কাউসার লাবীব বৃহস্পতিবার একটু আগে আগে ঘুমিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু গতরাতে খালেদ মুহিউদ্দীনের সঙ্গে ড. সাইয়েদ মুফতি এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী হাফিজাহুল্লাহর টক শো দেখার লোভ সামলাতে পারি নি। তবে দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের টক শো যে আগ্রহ নিয়ে দেখলাম—তা পূরণ হয় নি। এবার ড. আব্বাসীকে তেমন দমে দেখলাম না। তিনি অন্যান্য ‘টক শো’তে যেভাবে প্রাণবন্ত, প্রজ্ঞার সঙ্গে কথা বলেছেন—গতকাল কয়েকটি বিষয়ে কথা বলার সময় তা আমি দেখি নি। তবে তার চিরাচরিত তার্কিক অভিজ্ঞতার প্রমাণ তিনি ভালোই দিয়েছেন। এটা তিনি সবসময়ই দেন। মাঝে তো খালেদ মুহিউদ্দীন একবার বলেই ফেললেন—‘হুজুর, আপনি গায়ের জোরে কথা বলছেন।’ ভিডিওটা শুরু হয় শরয়ি বিধি-বিধানের মতপার্থক্য নিয়ে। এ ক্ষেত্রে মাজহাবের ইমামদের মতপার্থক্যের কথা বলার সময় তিনি বলেন—‘ইসলামের মৌলিক বিধানের ক্ষেত্রে ইমামদের কোনো মতপার্থক্য নেই। কেউ নামাজ চার ওয়াক্ত বলে না। কেউ বলে না অজুর ফরজ তিনটি। সবাই বলে চারটি।’ এই জায়গায় কথা হলো—সব ইমামের মতে কি অজুর ফরজ চারটি? অজুর ফরজ নিয়ে কি মতানৈক্য নেয়? আব্বাসী সাহেব এই জায়গায় মিসটেক করাটা আমার ভালো লাগে নি। সময়ের ধারাবাহিকতায় আলোচনা আসে ইসলামের ধর্ষণের আইন নিয়ে। ড. আব্বাসী সাহেব ধর্ষণের আইন নিয়ে যা বলেছেন, তা আমি নিজেই বুঝি নি। খালেদ মুহিউদ্দীন তো বুঝবে না—এটা স্বাভাবিক। আব্বাসী সাহেব বারবার জিনার বিধানকে ধর্ষণের বিধানের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলছিলেন। ধর্ষিতার সম্মান-অধিকার রক্ষায় ইসলামের কোনো সুন্দর মতামত বা বিধান উনি তুলে ধরেন নি। ধর্ষণের বিচারের জন্য যারা এতোদিন শরিয়া আইন চেয়েছিল—ড. আব্বাসীর এভাবে বিধানটি বর্ণনার কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ধর্ষণের আইন আর জিনার আইনটা ইসলামে কী আছে—সেটা ড. আব্বাসী সাহেব স্পষ্ট করে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারতেন। কিন্তু তা করলেন না। তবে ড. আব্বাসী মুরতাদদের নিয়ে বেশ শক্ত-পোক্ত আলোচনা করেছেন—বিষয়টি ভালো লেগেছে। রাষ্ট্রদ্রোহীর উদাহরণ টেনে তিনি ইসলামদ্রোহীর সুন্দর উপমা দিয়েছেন। শাতেম নিয়ে কিছু কথা বলছেন। তবে একটা জায়গায় আমার কাছে ভালো লাগেনি। খালেদ মুহিউদ্দীন সুরা নিসার ১৩৭ নম্বর আয়াতের ভুল তরজমা করে ড. আব্বাসীকে আটকানোর চেষ্টা করেন মুরতাদের বিধান নিয়ে। ড. আব্বাসী সাহেব সেই ভুল তরজমার প্রতিবাদ না করে সেই ভুলটাকে সঠিক ধরেই তার সঙ্গে তর্ক করেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যারা ইমান আনল, অতঃপর কুফরি করল আবার ইমান আনল আবার কুফরি করল, অতঃপর কুফরিতে অগ্রসর হতে থাকল, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না এবং পথপ্রদর্শন করবেন না।’ (সুরা নিসা: ১৩৭) এখানে ‘আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না’ এর স্থলে খালেদ মুহিউদ্দীন বললেন, ‘আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন।’ ‘না’ শব্দটি তিনি ফেলে দিয়ে প্রমাণ করতে চাইলেন—মুরতাদের বিধানের ক্ষেত্রে কোরআন এবং হাদিসে মতভেদ রয়েছে। হাদিসে মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড বলা হলেও, কোরআন বলেছে, ক্ষমা করে দিতে। ড. আব্বাসী সাহেব এই ভুল তরজমা ধরেই তার সঙ্গে তর্ক করলেন। ভিডিও দেখে বোঝা গেছে, ড. আব্বাসী সাহেবের সঙ্গে ক্যামেরার পেছনে তার শাগরেদরা ছিল। তিনি তাদের কাছে মাঝে কয়েকবার কিতাবও চেয়েছেন। তাদেরও তো উচিত ছিল বিষয়টি তাৎক্ষণিক দেখে হুজুরকে জানানো। এর মাধ্যমে মানুষের কাছে একটা ভুল বার্তা গেল। আশা করি অন্য কোনো ভিডিওতে ড. সাইয়েদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাহেব জিনার বিধান, ধর্ষণের বিধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন—যেন সাধারণ মানুষের মাঝে কোনো খটকা না থাকে। সবশেষে গতরাতের ‘টক শো’তে খালেদ মুহিউদ্দীনের ব্যবহার-কথা আমার কাছে ভালো লাগেনি। খালেদ মুহিউদ্দীন শরিয়া আইনের বিরুদ্ধে কিছু বিষয় অনেকদিন ধরে জমা করে বসেছিলেন—পৃথিবীতে কেন শরিয়া আইন প্রয়োজন নেই, সেটা প্রমাণের জন্য। আব্বাসী সাহেব তাকে ভালোই ধোলাই করেছেন। ধোলাই খেয়ে কয়েকবার তিনি বেশ উত্তেজিত হয়ে গেছেন। একজন অতিথির সঙ্গে এটা তিনি করতে পারেন না। মাঝে তো খালেদ মুহিউদ্দীন একবার বলেই ফেললেন—‘হুজুর, আপনি গায়ের জোরে কথা বলছেন।’ ড. আব্বাসী সাহেবও ছাড়ার পাত্র নন। তিনিও তাৎক্ষণিক জবাব দিলেন—‘আপনি মুখের জোরে কথা বলছেন।’ জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীমের সঙ্গে যেভাবে শ্রদ্ধা রেখে খালেদ মুহিউদ্দীন কথা বলেছেন—গতকাল সেটা বলেন নি। ড. আব্বাসী সাহেব বয়সে খালেদ মুহিউদ্দীনের চেয়ে চার বছরের ছোট হওয়ার কারণে এমনটি করেছেন কী না—কে জানে! আমি চাই খালেদ মুহিউদ্দীন ‘রাষ্ট্রে শরিয়া আইন’ বিষয়ে একটা বড় আয়োজন করুক। পক্ষে-বিপক্ষে একাধিক অতিথি থাকুক। বিষয়টি নিয়ে মানুষের চূড়ান্ত ধারণা পাওয়ার সুযোগ হোক। লেখক: তরুণ লেখক ও সংবাদকর্মী আরএইচ/ |