
|
‘মাদরাসাগুলো আমাদের পরিচয়, কখনো এই পরিচয় মুছে যেতে দেব না’
প্রকাশ:
০৫ জুন, ২০২৬, ০৩:৩০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ ও মাদরাসার বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রশাসনিক অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি ও দারুল উলূম দেওবন্দের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস মাওলানা আরশাদ মাদানী। তিনি বলেছেন, মাদরাসা শুধু মুসলমানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; বরং তাদের ধর্মীয় পরিচয়, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শুক্রবার (৬ জুন) এক বিবৃতিতে মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, মাদরাসাগুলো শুধু আমাদের শিক্ষাঙ্গন নয়, এগুলো আমাদের দ্বীন, আমাদের পরিচয়। আমরা কখনোই আমাদের এই পরিচয় মুছে যেতে দেব না। আজ যেসব মাদরাসাকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে জোরপূর্বক বন্ধ করা হচ্ছে, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—এসব মাদরাসা থেকেই সর্বপ্রথম ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আওয়াজ উঠেছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন অজুহাতে মসজিদ ও মাদরাসাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে এবং মুসলিম সমাজের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে। তার ভাষায়, মাদরাসাগুলো মুসলিম সমাজের প্রাণকেন্দ্র এবং এগুলোর অস্তিত্ব রক্ষা করা মানে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ‘অবৈধ স্থাপনা’, ‘নিয়মবহির্ভূত নিবন্ধন’ কিংবা ‘ভূমিসংক্রান্ত অনিয়ম’-এর অভিযোগে অসংখ্য মাদরাসা ও কিছু মসজিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, আসামসহ কয়েকটি রাজ্যে মাদরাসা বন্ধ, সিলগালা বা উচ্ছেদের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এসব পদক্ষেপের পক্ষে রাজ্য সরকারগুলো আইন ও প্রশাসনিক নিয়ম বাস্তবায়নের যুক্তি দিলেও মুসলিম সংগঠনগুলো একে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ বলে দাবি করছে। সম্প্রতি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকেও সংগঠনটি অভিযোগ করে যে, দেশে মুসলিম ও ইসলামি প্রতীকগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মসজিদ-মাদরাসা ইস্যু রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এসব বিষয়ে তারা আইনি ও সাংবিধানিক লড়াই অব্যাহত রাখবে। মাওলানা মাদানি মুসলিম সমাজকে ধৈর্য ও আইনানুগ পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের সংগ্রাম জনগণের বিরুদ্ধে নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। সংবিধান ও আইনের কাঠামোর মধ্য থেকেই আমরা মাদরাসা ও মসজিদের সুরক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। জেডএম/ |