
|
খলিলুর রহমানের বিজয়, শঙ্কা ও প্রত্যাশার কথা জানালেন জমিয়ত সভাপতি
প্রকাশ:
০৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়াকে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করলেও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। শুক্রবার (৫ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে জমিয়ত সভাপতি বলেন, জাতিসংঘের মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ পদে বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধির নির্বাচিত হওয়া নিঃসন্দেহে দেশের জন্য বড় অর্জন এবং বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সাফল্য। তবে এই অর্জন উদযাপনের আগে জাতিসংঘের বর্তমান ভূমিকা ও বৈশ্বিক বাস্তবতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও শঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, জাতিসংঘকে বিশ্বের সকল জাতিগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তার রক্ষাকবচ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে সংস্থাটি পরাশক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির স্বার্থরক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে অনেকের ধারণা রয়েছে। এ কারণে জাতিসংঘের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে কারও নির্বাচনের পেছনে বৃহৎ শক্তিগুলোর স্বার্থ জড়িত কি না, সে প্রশ্নও জনমনে তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ড. খলিলুর রহমানের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যে চুক্তি হয়েছে বলে দাবি করা হয়, তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে তার নির্বাচনকে কেউ কেউ ওই চুক্তির পুরস্কার হিসেবেও দেখছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে জমিয়ত সভাপতি বলেন, এই অর্জনের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তখনই, যখন ড. খলিলুর রহমান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা রক্ষা করতে পারেন তা স্পষ্ট হবে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যু, সীমান্তে সংঘটিত ঘটনা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জাতিসংঘে কতটা কার্যকরভাবে তুলে ধরা যায়, সেটিই হবে মূল বিবেচ্য বিষয়। তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল দেখা গেলে দেশের মানুষ এ অর্জনকে সার্থকভাবে উদযাপন করবে। অন্যথায় এটি ইতিহাসে ভিন্নভাবে মূল্যায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পোস্টের শেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দেশের কল্যাণ কামনা করে বলেন, জাতির জন্য যেন এ অর্জনের মাধ্যমে ইতিবাচক ফল বয়ে আসে, সেই প্রত্যাশাই করা হচ্ছে। জেডএম/ |