
|
দিল্লি অগ্নিকাণ্ড: বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়ে হিরো ৫ মুসলিম যুবক
প্রকাশ:
০৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৫ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
ভারতের রাজধানী দিল্লির দক্ষিণাঞ্চলের মালভিয়া নগরের একটি স্বল্পমূল্যের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যেও মানবতা ও সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা, বিশেষ করে পাঁচ মুসলিম যুবক। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিধায়ক সতীশ উপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আফজাল, মোহাম্মদ শাহরুখ, মোহাম্মদ আনিস, মোহাম্মদ আমির এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি তাদের ‘ব্রেভহার্ট’ আখ্যা দিয়ে বলেন, নিজেদের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে তারা বহু মানুষের জীবন রক্ষা করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুনে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে বারবার জ্বলন্ত ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন এই পাঁচ যুবক। ধোঁয়া ও আগুনের ভয়াবহতার মধ্যেও তারা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যান এবং অসংখ্য মানুষকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। শুধু তারাই নন, আশপাশের বাসিন্দা, দোকানদার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও উদ্ধার অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ৬১ বছর বয়সী গদির দোকান মালিক রিয়াজউদ্দিন নিজের দোকানের সব গদি বের করে ভবনের নিচের সরু গলিতে বিছিয়ে দেন, যাতে ওপরতলা থেকে লাফিয়ে পড়া মানুষজন গুরুতর আহত না হন। তার এই উদ্যোগে অন্তত ১০ জনের জীবন রক্ষা পায়। তবে এতে তার প্রায় দুই লাখ রুপির ক্ষতি হয়েছে। নিকটবর্তী ম্যাক্স হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওয়াসিম রাজা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ভবনে একাধিকবার প্রবেশ করে অন্তত ১০ জন ভুক্তভোগীকে সিপিআর প্রদান করেন। এছাড়া মোহাম্মদ ইসরার খান এবং সাবেক অগ্নি-জরুরি প্রশিক্ষক মোহাম্মদ শোয়েবসহ আরও অনেক স্থানীয় ব্যক্তি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে আহত ও নিহতদের ভবন থেকে বের করে আনতে সহায়তা করেন। এদিকে তদন্তে হোটেলটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, হোটেলটি অগ্নি-নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি কক্ষ তৈরি করা হয়েছিল এবং ভবনে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য ছিল মাত্র একটি পথ। ঘটনার পর হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নয়জন আফ্রিকান নাগরিক এবং দুজন তুর্কমেনিস্তানের নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানি ঘটলেও বিপদের মুহূর্তে সাধারণ মানুষের মানবিকতা, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে পাঁচ মুসলিম যুবকের নিঃস্বার্থ উদ্ধার তৎপরতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। সূত্র: মুসলিম মিরর জেডএম/ |