
|
কওমি মাদরাসা কেন বারবার ষড়যন্ত্রের নিশানায়?
প্রকাশ:
০৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৩ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী ভ্রান্ত, ভ্রষ্ট ও ইসলামবিদ্বেষী নানা গোষ্ঠীর পর এবার কওমি মাদরাসাকে টার্গেট করেছে ফ্যাসিবাদের চিহ্নিত দোসরেরা। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুযোগ নিয়ে তারা পুরো কওমি অঙ্গনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। যেন একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধই হাজারো আলেম, লক্ষ ছাত্র ও শতবর্ষের দ্বীনি খেদমতকে মুছে দেওয়ার অজুহাত! অপরাধ যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংগঠন কিংবা সমাজেই ঘটতে পারে। কিন্তু অন্য সেক্টরে প্রতিনিয়ত ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হলেও সেখানে প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দাবি ওঠে না, প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাব্যবস্থাকে দোষারোপও করা হয় না; বরং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার দাবি করা হয়। অথচ কওমী মাদ্রাসার বেলায় পুরো ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়। কারণ এদের মূল সমস্যা অপরাধ নয়; ইসলাম, দ্বীনি শিক্ষা ও ইসলামি চেতনাকে সহ্য করতে না পারা। অতীতে ‘উগ্রবাদ’, ‘জঙ্গিবাদ’, ‘সাম্প্রদায়িকতা’ ইত্যাদি তকমা লাগিয়ে কওমি মাদরাসা ধ্বংসের অপচেষ্টা হয়েছে। আজ নতুন অভিযোগ এনে একই চক্রান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। অথচ দেশের অন্যান্য সেক্টরের তুলনায় কওমি মাদরাসায় অপরাধের হার নগণ্য। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে দ্বীনের খেদমত, কুরআনের শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে কওমী মাদ্রাসাগুলোর অবদান অপরিসীম। এই কওমি অঙ্গনই যুগে যুগে ঈমান-আকিদা, স্বাধীনতা, ন্যায় ও ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ইসলামের দুর্গ ও দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হলে ইসলামবিরোধী ও ফ্যাসিবাদী শক্তির পথ আরও প্রশস্ত হবে—এ কথা মিডিয়ার অপপ্রচারে বিভ্রান্ত কিছু মানুষ না বুঝলেও ইসলাম ও মুসলমানের দুশমনেরা ঠিকই বুঝে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অপরাধীর বিচার হোক। আমরা ন্যায়বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের পক্ষেই শরয়ী আইন চাই। ইসলামের দুর্গ কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র বন্ধ হোক। দ্বীনের খেদমতে নিবেদিত এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের স্বপ্ন যারা দেখে, তারা কখনোই এ দেশ, ইসলাম ও মুসলমানের কল্যাণকামী শক্তি হতে পারে না। লেখক: মহাসচিব, ইসলামী ঐক্যজোট জেডএম/ |