কোরবানির পর অবিক্রিত প্রায় ৩০ লাখ পশু
প্রকাশ: ০৪ জুন, ২০২৬, ০২:৪৪ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহার পর প্রায় ৩০ লাখ গবাদিপশু অবিক্রিত থেকে যাওয়ার তথ্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চুড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা পশুর প্রায় এক-চতুর্থাংশ বিক্রি হয়নি। ফলে বিপুলসংখ্যক খামারি ও উদ্যোক্তা আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন। 

বৃহস্পতিবার(৪ জুন) সচিবালয়ে ঈদুল আজহা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, এ বছর দেশে কোরবানি হয়েছে ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি পশু। গত বছরের তুলনায় কোরবানির সংখ্যা বেড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪১৮টি। গত বছর কোরবানি হয়েছিল ৯১ লাখ ৩৬ হাজার পশু।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যে জানা যায়, এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু। এর মধ্যে কোরবানি হয়েছে ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি। ফলে ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮৬টি পশু অবিক্রিত থেকে গেছে। যদিও সরকারিভাবে পশু উদ্বৃত্তের সংখ্যা ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪২২টি বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে কয়েক বছর ধরে কোরবানির পশুর উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। কিন্তু একই হারে বাড়ছে না চাহিদা। ফলে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পশু অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে বড় ও মাঝারি খামারিরা বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পেয়ে লোকসানের ঝুঁকিতে পড়ছেন।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ছিল ১ কোটি ৩ লাখ ৭৯ হাজার ২০২টি। তখন প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি। কোরবানি হয়েছিল ৯১ লাখ ৩৬ হাজার পশু এবং অবিক্রিত বা উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৭টি পশু। সেই হিসাবে গত বছরের তুলনায় অবিক্রিত পশুর সংখ্যা কিছুটা কমলেও এবারও প্রায় ৩০ লাখ পশু বিক্রি হয়নি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুর মাধ্যমেই এ বছরও কোরবানির শতভাগ চাহিদা পূরণ সম্ভব হয়েছে। এটি দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের আত্মনির্ভরশীলতার প্রমাণ। তাঁর ভাষ্য, সরকারের নীতিসহায়তা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তদারকি এবং খামারিদের পরিশ্রমের ফলে দেশে পশু উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এবার কোরবানি হওয়া পশুর মধ্যে গরু ও মহিষ ছিল ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার ১৫৮টি। ছাগল ও ভেড়া ছিল ৪৫ লাখ ২ হাজার ২৩৩টি। অন্যান্য পশু ছিল ১ হাজার ২৭টি।বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পশু কোরবানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে, ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬টি। দ্বিতীয় অবস্থানে রাজশাহী বিভাগে কোরবানি হয়েছে ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯টি পশু। চট্টগ্রাম বিভাগে কোরবানি হয়েছে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫টি পশু। এছাড়া রংপুরে ১০ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৪টি, খুলনায় ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫টি, বরিশালে ৪ লাখ ১৬০টি, ময়মনসিংহে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৮টি এবং সিলেটে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩২১টি পশু কোরবানি হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, দেশে পশু উৎপাদন বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও বাজার ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ, বিকল্প বিপণন ব্যবস্থা এবং খামারিদের জন্য আর্থিক সুরক্ষা না থাকলে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক অবিক্রিত পশুর বোঝা বহন করতে হবে। এতে একদিকে খামারিদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে, অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়নও চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে পারে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ঈদ উপলক্ষে সারা দেশে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ নজরদারি, ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম, কন্ট্রোল রুম ও হটলাইন সেবা চালু ছিল। পাশাপাশি অনলাইন ও অফলাইনে পশু বিপণন, চামড়া সংরক্ষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তবে কোরবানির পর প্রায় ৩০ লাখ পশু অবিক্রিত থেকে যাওয়ার বিষয়টি খামারিদের জন্য বড় অর্থনৈতিক বাস্তবতা হিসেবেই সামনে এসেছে।

 এমএম/